নিজস্ব প্রতিবেদক, চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তিন হাজার পিস ইয়াবাসহ এক যুবককে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে জয়রামপুর চায়ের হাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আটক যুবকের নাম আব্দুল্লাহ (২৮)। তিনি চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার শাপলাকলিপাড়া গ্রামের আরফান আলির ছেলে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানতে পারেন যে, রাজধানী ঢাকা থেকে একটি যাত্রীবাহী বাসে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট বহন করে চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলে আনা হচ্ছে। এমন তথ্য পাওয়ার পরই জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলামের নির্দেশনায় একটি বিশেষ অভিযানিক দল গঠন করা হয়।
পরবর্তীতে দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর চায়ের হাট এলাকায় কৌশলগত অবস্থান নিয়ে নজরদারি শুরু করেন ডিএনসির সদস্যরা। সন্ধ্যার দিকে ঢাকা থেকে জীবননগরগামী পূর্বাশা পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-ব-১২-৫৯৫৯) একটি যাত্রীবাহী বাস সেখানে পৌঁছালে সেটিকে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশির একপর্যায়ে বাসে থাকা সন্দেহভাজন যাত্রী আব্দুল্লাহর আচরণে অসঙ্গতি লক্ষ্য করেন কর্মকর্তারা। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও দেহ তল্লাশি করা হলে তার হেফাজতে থাকা ব্যাগ থেকে তিন হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক পরিবহন ও যোগাযোগের কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি মাদক বহনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে মাদক সরবরাহ ও গ্রহণকারী চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, এর পেছনে একটি সংঘবদ্ধ মাদক কারবারি নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকতে পারে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তিন হাজার পিস ইয়াবাসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্য। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া তার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “মাদক সমাজ ও যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে আমাদের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। মাদক কারবারি, পরিবহনকারী ও পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা মাদকবিরোধী এমন অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলে মাদক পাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তাদের মতে, ধারাবাহিক অভিযান ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে মাদকের বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
আটক আব্দুল্লাহকে প্রাথমিক আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।