জীবননগর অফিস:-
‘রাখিব চারপাশ পরিষ্কার, গড়িব সুন্দর পরিবেশ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের লক্ষ্যে শনিবার (৬ জুন) সকাল ১০টায় জীবননগর উপজেলা প্রশাসন ও জীবননগর পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সকালে জীবননগর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনবহুল এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
র্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা আবর্জনা অপসারণ, ঝোপঝাড় পরিষ্কার এবং মশার প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত স্থানগুলো পরিদর্শন করেন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মাঝে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জীবননগর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আতিয়ার রহমান, উপজেলা আইসিটি অফিসার মাহমুদুল রহমান, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সৈয়দ আব্দুল জব্বার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান, জীবননগর পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিউদ্দিন শফি, জীবননগর পৌর জামায়াতের আমির ফিরোজ হোসেনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা বলেন, বর্তমানে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা, পানির ট্যাংক, ফ্রিজের ট্রে ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে। ফলে এসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং জমে থাকা পানি অপসারণ করা অত্যন্ত জরুরি।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে আমরা অনেকাংশে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে পারি। প্রশাসনের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই পারে একটি ডেঙ্গুমুক্ত জীবননগর গড়ে তুলতে।”
তিনি আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা যৌথভাবে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লার্ভা নিধন কার্যক্রম এবং জনসচেতনতামূলক প্রচারণা অব্যাহত রাখবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে আরও ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
আয়োজকরা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে। একটি সুস্থ, নিরাপদ ও ডেঙ্গুমুক্ত জীবননগর গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।