বিশেষ প্রতিনিধি:
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়িয়া পূর্বপাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তুষার বিশ্বাস (২৭) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত তুষার বিশ্বাস উপজেলার বেতবাড়িয়া পূর্বপাড়ার বাসিন্দা ও মন্টু বিশ্বাসের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তুষারের স্ত্রী ববিতা বিশ্বাস প্রায় দেড় মাস ধরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর গ্রামে তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, স্ত্রী ও সন্তানকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নিয়ে তুষার মানসিকভাবে উদ্বিগ্ন ছিলেন।
নিহতের বাবা মন্টু বিশ্বাস জানান, তার ছেলে মাদকাসক্ত ছিল এবং নিয়মিত কোনো পেশায় যুক্ত ছিল না। ঘটনার দিনও সে বাড়িতেই অবস্থান করছিল। তুষারের মা জানান, ছেলে স্ত্রী ও সন্তানকে আনতে যাওয়ার জন্য তার কাছে টাকা চেয়েছিল। মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে তিনি মেয়ের বাড়ি থেকে টাকা আনতে যান। বিকেলে বাড়ি ফিরে এসে দেখতে পান ঘরের খাবার-দাবার আগের অবস্থায় রয়েছে। পরে পাশের ঘর দিয়ে উঁকি দিয়ে তিনি দেখতে পান, তুষার বিদ্যুতায়িত অবস্থায় দেয়ালের সঙ্গে হেলে পড়ে আছে।
তার চিৎকারে পরিবারের অন্য সদস্য ও স্থানীয় প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তুষারকে উদ্ধার করে নিচে নামান। তবে তখনই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
খবর পেয়ে ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আব্দুল করিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। পরে মরদেহ গাংনী থানার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য পাঠানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে অপমৃত্যু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হবে। পরবর্তীতে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
গাংনী থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
এই সংস্করণটি সংবাদপত্র বা অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশের উপযোগী করে সম্পাদনা করা হয়েছে।