শহিদুল ইসলাম,মহেশপুর প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ২নং ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ২ কোটি ৮ লাখ ১৩ হাজার ৫৯৫ টাকার উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। রবিবার (৮ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক উন্মুক্ত বাজেট সভায় এ বাজেট ঘোষণা করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১নং প্যানেল চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ আশাদুল ইসলাম। বাজেট সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ শওকত আলী, ফতেপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর শওকত আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সবুজ মিয়া এবং উষা এনজিওর নির্বাহী পরিচালক আব্দুল হান্নান। বক্তারা ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, জনসেবার মানোন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় পুরন্দরপুর মডেল একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সালিমুর রহমান, ইউনিয়ন পরিষদের সকল ওয়ার্ড সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্যবৃন্দ, মহল্লাদার, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
উন্মুক্ত বাজেট সভায় জানানো হয়, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য মোট আয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৮ লাখ ১৩ হাজার ৫৯৫ টাকা। এর বিপরীতে সম্ভাব্য মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ৯৫ লাখ ২ হাজার ১৫৩ টাকা। বাজেটে স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি, অবকাঠামো উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক ব্যয়ের বিভিন্ন খাত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাজেট উপস্থাপন ও অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব কাজী মোঃ ইনছাদুর রহমান। তিনি বাজেটের বিভিন্ন আয়-ব্যয়ের খাত বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন এবং উপস্থিত জনগণের মতামত গ্রহণ করেন। বক্তারা উন্মুক্ত বাজেট প্রণয়নের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সভা শেষে ফতেপুর বাজার জামে মসজিদের ইমাম মোঃ আজম আলীর পরিচালনায় দেশ, জাতি ও ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণার মাধ্যমে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনসম্পৃক্ততা আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপস্থিত বক্তারা।