অপুদাস,ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এসএম আতিকুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তবায়িত মিল্ক ফিডিং প্রকল্পের বরাদ্দে ব্যাপক নয়ছয়ের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার্থীপ্রতি ৩০ টাকা মূল্যের একটি করে ইউএইচটি দুধের প্যাকেট বিতরণের কথা থাকলেও তা না করে মাত্র ৯০ কেজি তরল দুধ ক্রয় করে গরম করে প্লাস্টিকের গ্লাসে পরিবেশন করা হয়। প্রকল্পে ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ইউএইচটি দুধ বিতরণের জন্য বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে তা করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া একই প্রকল্পে ৯ জন শিক্ষার্থীকে ২ হাজার টাকা করে মোট ১৮ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়ার কথা থাকলেও তাদের হাতে মেলামাইন প্লেট, বাটি ও গ্লাস তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠান শেষে টাকার অঙ্ক উল্লেখ না করেই মাস্টাররোলে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
সূত্র জানায়, কর্মসূচির আওতায় ৬০ জনের জন্য মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা রাখার কথা থাকলেও কোনো খাবার পরিবেশন করা হয়নি। ফলে প্রায় এক লাখ টাকার বাজেটের কর্মসূচি মাত্র ১০ হাজার টাকার মধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে ছাগল উন্নয়ন কর্মী নিয়োগেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, হরিণাকু-ু উপজেলায় আওয়ামী লীগ সমর্থক সুফল কুমার নামে এক ব্যক্তিকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, রাজস্ব বাজেটের প্রায় ১১ লাখ টাকা কোনো কাজ ছাড়াই অফিস সহকারী মর্জিনার সহযোগিতায় উত্তোলন করা হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে মহেশপুর উপজেলার পিপিআর প্রকল্পের ভ্যাকসিনেটরদের সম্মানী প্রদানের সময় জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তিন লাখ টাকা দাবি করেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভ্যাকসিনেটররা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের বিল আটকে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এ ঘটনায় পরবর্তীতে তদন্তের মুখোমুখি হন ওই কর্মকর্তা।
স্কুল ফিডিং কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে শৈলকুপা উপজেলার হিতামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হোসনে আরা বলেন, “প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের এক গ্লাস করে তরল দুধ খাওয়ানো হয়েছে। পরে খেলাধুলার আয়োজন শেষে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে প্লেট, বাটি ও গ্লাস পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়।”
একই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবু সাঈদ জানায়, “আমাকে এক গ্লাস দুধ দেওয়া হয়েছিল, আমি তা খেয়েছি।”
এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এসএম আতিকুজ্জামানের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে খুলনা বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ পরিচালক ডা. মো. গোলাম হায়দার বলেন, “প্রকল্পের বরাদ্দের বিষয়টি সঠিক। তবে এ ধরনের কোনো অভিযোগ এখনও আমার কাছে আসেনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এসএম আতিকুজ্জামান বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সত্য নয়। প্রকল্পের সকল কার্যক্রম সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করেই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে বিষয়টি যাচাই করতে পারে।”
স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।