ময়মনসিংহ অফিস :
ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌরসভার ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১৭ কোটি ৮৬ লাখ ৯ হাজার ৩৬৫ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। তবে নতুন বাজেট ঘোষণার পরই পৌরবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নতুন বাজেটের চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে গত অর্থবছরের ৫১ কোটিরও বেশি টাকার প্রস্তাবিত ব্যয়ের হিসাব এবং তার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন।
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে পৌরসভার সম্ভাব্য আয় ধরা হয়েছিল ৫২ কোটি ৬২ লাখ ৭১ হাজার ৪১১ টাকা ১১ পয়সা এবং সম্ভাব্য ব্যয় ৫১ কোটি ৪৩ লাখ ৫ হাজার টাকা। তবে ওই বিপুল অর্থের বিপরীতে কোন কোন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, কত টাকা কোন খাতে ব্যয় হয়েছে এবং নাগরিকরা তার কী সুফল পেয়েছেন—সে বিষয়ে জনসম্মুখে কোনো বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ সচেতন মহলের।
তাদের দাবি, জনগণের করের অর্থে পরিচালিত পৌরসভার প্রতিটি টাকার ব্যয়ের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। তাই নতুন বাজেট বাস্তবায়নের আগে গত অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ, বাস্তবায়িত প্রকল্পের তালিকা এবং খাতভিত্তিক ব্যয়ের হিসাব সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকাশ করা উচিত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর বড় অঙ্কের বাজেট ঘোষণা করা হলেও সড়ক, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সুপেয় পানি ও নাগরিক সেবার মানে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন দৃশ্যমান নয়। ফলে কাগুজে বাজেট নয়, বাস্তব উন্নয়নের প্রতিফলন দেখতে চান পৌরবাসী।
এ বিষয়ে গৌরীপুর পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার সুনন্দা সরকার প্রমা বলেন, “গত বছর বাজেটের বিষয়টি এত গভীরভাবে পর্যালোচনা করিনি। অর্থ শাখা যে খসড়া প্রস্তুত করেছিল, তাতে স্বাক্ষর করেছি। পরে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এবার গত ১০ বছরের বাজেট বই পর্যালোচনা করি। সেখানে দেখা যায়, বাস্তবে রাজস্ব ও উন্নয়ন মিলিয়ে সর্বোচ্চ আয় প্রায় ১২ কোটি টাকা হলেও প্রস্তাবিত বাজেট ৫০ কোটিরও বেশি ধরা হতো। বিষয়টি উপলব্ধি করে এবার সম্ভাব্য বরাদ্দের ভিত্তিতে, সামান্য বৃদ্ধি রেখে বাস্তবসম্মত বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।”
তবে পৌরবাসীর প্রশ্ন, যদি অতীতের বাজেট বাস্তবসম্মত না হয়ে থাকে, তাহলে গত অর্থবছরের প্রস্তাবিত ৫১ কোটির ব্যয়ের বিপরীতে প্রকৃত আয়-ব্যয় এবং বাস্তবায়িত উন্নয়ন কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ হিসাবও জনসম্মুখে প্রকাশ করা প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন জনমনে থাকা প্রশ্নের অবসান হবে, অন্যদিকে পৌর প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও আরও সুদৃঢ় হবে।