জীবননগর কৃষ্ণপুরে রাস্তা নির্মাণ কাজে চাঁদা দাবির অভিযোগ, শ্রমিক মারধর ও সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগ

জীবননগর অফিস:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) আওতাধীন এডিবির অর্থায়নে চলমান একটি রাস্তা উন্নয়নকাজে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। চাঁদা না পেয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়া, শ্রমিকদের মারধর এবং সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কাজের ঠিকাদার জীবননগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কৃষ্ণপুর গ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ৫৭ মিটার উন্নয়ন ও নির্মাণকাজের দায়িত্ব পান মনোহরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য আলী হোসেন। প্রকল্পের কাজ শুরু করতে শ্রমিকরা নির্ধারিত স্থানে ইট, বালু ও অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী মজুদ করেন এবং প্রাথমিক কাজও শুরু করেন।
ঠিকাদার আলী হোসেনের অভিযোগ, কাজ শুরুর কিছু সময়ের মধ্যেই রায়পুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আনিছুর রহমান, ওয়ার্ড বিএনপির নেতা হারুন-অর-রশীদ এবং স্থানীয় যুবলীগ নেতা তুহিনসহ কয়েকজন তার নিয়োজিত হেডমিস্ত্রির কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবি করা অর্থ না দেয়ায় তারা নির্মাণকাজে বাধা সৃষ্টি করেন।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা শ্রমিকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে কয়েকজন শ্রমিককে মারধর করা হয় এবং কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। শ্রমিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এতে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেন এবং তাদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করেন।
জীবননগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও এনটিভি অনলাইন প্রতিনিধি মো. রিপন হোসেন বলেন, “রাস্তা নির্মাণ কাজে চাঁদা দাবির অভিযোগ ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার খবর পেয়ে আমরা তিনজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে তথ্য সংগ্রহের সময় আনিছুর রহমান, হারুন-অর-রশীদ ও তুহিনের নেতৃত্বে কয়েকজন আমাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষে বেশ কয়েকজন চাঁদা দাবির অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন, যেখানে রাস্তাটি নির্মাণ করা তা খুব মানুষ ব্যবহার করে না। কিন্তু যে রাস্তা এলাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেটি করা হচ্ছে না। দাবিকৃত রাস্তাটি না করার জন্য কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি হয়। এদিকে এ ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মিদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার পর ঠিকাদার আলী হোসেন জীবননগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি চাঁদা দাবি, শ্রমিকদের মারধর, কাজে বাধা প্রদান এবং সাংবাদিকদের হেনস্তার বিষয়গুলো উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান সেখ বলেন, “কৃষ্ণপুরে রাস্তা নির্মাণকাজে চাঁদা দাবির অভিযোগে আলী হোসেন নামে একজন ঠিকাদার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা বাধা সৃষ্টি উন্নয়ন কার্যক্রমকে ব্যাহত করে এবং জনস্বার্থের পরিপন্থী। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *