চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে আন্দুলবাড়ীয়ায় উত্তেজনা, সহিংসতার আশঙ্কা; প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা এলাকাবাসীর

জাহিদুল ইসলাম মামুন, জীবননগর:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নে চলমান ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, কয়েকটি দলের উচ্ছৃঙ্খল আচরণের কারণে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনার ম্যাচ শেষে একদল সমর্থক বিজয় মিছিল বের করেন। অভিযোগ রয়েছে, মিছিল চলাকালে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি মোটরসাইকেল বহর নিয়ে উচ্চ শব্দে হর্ন বাজানো, আতশবাজি ও পটকা ফোটানো এবং বিভিন্ন স্থানে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করেন। এ সময় কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিগত বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আন্দুলবাড়ীয়া বাজার, পুরাতন অগ্রণী ব্যাংক মোড়, কাঁচাবাজার, মাছবাজার, খাপড়ার মোড়, রাজধানীপাড়া, মিস্ত্রীপাড়া, হারদাপাড়া, মীরপাড়া, দরগাপাড়া ও মণ্ডলপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্রাজিল ও পর্তুগাল সমর্থকদের টানানো পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা এবং কয়েকটি স্থানে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন। এসব ঘটনায় সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনাল ঘনিয়ে আসায় আবারও উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে পারে। তাদের আশঙ্কা, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সংঘর্ষ বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, খেলাকে কেন্দ্র করে আনন্দ-উল্লাস স্বাভাবিক হলেও তা যেন কোনোভাবেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি বা জনদুর্ভোগের কারণ না হয়। তারা সকল ফুটবল সমর্থকের প্রতি সংযম প্রদর্শন, সহনশীল আচরণ এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি বিশ্বকাপের অবশিষ্ট ম্যাচগুলোকে কেন্দ্র করে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল জোরদার, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযুক্ত করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *