পরিকল্পিত জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার আহ্বান
জীবননগর অফিস:
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তারা বলেন, পরিকল্পিত জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি সুস্থ, দক্ষ ও উৎপাদনশীল জনগোষ্ঠী গড়ে তোলা সম্ভব। আর এ ধরনের জনগোষ্ঠীই দেশের টেকসই উন্নয়ন ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রবিবার (১২ জুলাই) বিকেল ৩টায় জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিবৃন্দ, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্যকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তারা বলেন, জনসংখ্যা শুধু সংখ্যার বিষয় নয়; এটি দেশের উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। তবে জনসংখ্যাকে সম্পদে রূপান্তর করতে হলে পরিবার পরিকল্পনা, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ মাতৃত্ব, প্রজনন স্বাস্থ্য, নারী শিক্ষা, পুষ্টি এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, আবাসন, খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে পরিকল্পিত পরিবার গঠন এবং আধুনিক পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির ব্যবহার নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। একই সঙ্গে তরুণদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনায় বলা হয়, মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমানো, কিশোর-কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে একটি সুস্থ ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
এবারের বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল—”তারুণ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি।” বক্তারা বলেন, এ প্রতিপাদ্যের মূল লক্ষ্য তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণ করা।
সভা শেষে উপস্থিত বক্তারা পরিবার পরিকল্পনা, প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিকল্পিত জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তারা বলেন, “সচেতন পরিবার, সুস্থ সমাজ ও পরিকল্পিত জনসংখ্যাই একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ভিত্তি।”