ওমানে স্ট্রোকে প্রবাসীর মৃত্যু, মরদেহের অপেক্ষায় স্বজনদের আহাজারি

আবু সাইদ শওকত আলী,ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের গুড়পাড়া গ্রামের পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা মৃত শামসুল বিশ্বাসের ছেলে হাফিজুর রহমান হাপু (৩৫) ওমানে স্ট্রোকজনিত কারণে মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি সেখানে টাইলস মিস্ত্রি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৩ জুলাই) দিবাগত রাতে ওমানের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হাফিজুর রহমান। প্রায় পাঁচ বছর আগে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন এবং ভাগ্যের পরিবর্তনের আশায় তিনি ওমানে পাড়ি জমান। কিন্তু প্রবাস জীবনের স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই আকস্মিক স্ট্রোকে তার মৃত্যু হয়।

চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে হাফিজুর ছিলেন তৃতীয়। তার মৃত্যুর সংবাদ রোববার রাতেই গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্ত্রী রাবিয়া খাতুন, ১৫ বছর বয়সী ছেলে মুন্না এবং ১৮ বছর বয়সী মেয়ে মুক্তা খাতুনের কান্নায় বাড়ির পরিবেশ হয়ে ওঠে হৃদয়বিদারক। গুড়পাড়া গ্রামসহ আশপাশের এলাকাতেও নেমে আসে শোকের আবহ।

হাফিজুর রহমানের স্ত্রী রাবিয়া খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সংসারের সুখ-স্বচ্ছলতার জন্য আমার স্বামী বিদেশে গিয়েছিলেন। কিন্তু জীবিত ফিরে না এসে এখন তার মরদেহের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। সন্তানরা বারবার বাবার কথা জিজ্ঞেস করছে। আমরা শুধু চাই, যত দ্রুত সম্ভব তার মরদেহ দেশে এনে শেষবারের মতো দেখতে পারি।”

হাফিজুরের ৭০ বছর বয়সী মা খোদেজা বেগম বলেন, “ছেলের মুখটি শেষবারের মতো একবার দেখতে চাই। আল্লাহ যেন দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করে দেন।”

পরিবারের সদস্যরা জানান, ওমানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কার্যক্রম চলছে। আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছাবে বলে তারা আশা করছেন।

বুধবার (১৫ জুলাই)দুপুরে স্থানীয় সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মইদুল ইসলাম বকুল বলেন, “হাফিজুর একজন পরিশ্রমী ও ভদ্র মানুষ ছিলেন। পরিবারের সুখের জন্য বিদেশে গিয়ে অকালে তার মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই এবং দ্রুত মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই।”

বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। এদিকে হাফিজুর রহমানের মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *