শৈলকূপায় কৃষকের ফলন্ত লাউক্ষেত কেটে দিল দুর্বৃত্তরা, দু’লাখ টাকার ক্ষতির দাবি

আবু সাইদ শওকত আলী,ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার দিগনগর ইউনিয়নের গোকুলনগর গ্রামে এক কৃষকের ৩৩ শতক জমির ফলন্ত লাউক্ষেত রাতের আঁধারে কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক। একই জমিতে গত বছরও অনুরূপ ঘটনা ঘটেছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে প্রতিদিনের মতো জমিতে কাজ করতে গিয়ে কৃষক আলমগীর হোসেন দেখতে পান, তার লাউক্ষেতের প্রায় সব গাছের গোড়া ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে ফেলা হয়েছে। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো ক্ষেতটি নষ্ট হয়ে যায়। আলমগীর হোসেন গোকুলনগর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আলমগীর হোসেন জানান, দীর্ঘ কয়েক মাসের শ্রম, সময় ও অর্থ বিনিয়োগ করে তিনি লাউক্ষেতটি গড়ে তুলেছিলেন। ক্ষেত থেকে নিয়মিত লাউ সংগ্রহ করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতেন। তিনি বলেন, “একদিন পরপর ৪ থেকে ৫ হাজার টাকার লাউ বিক্রি হতো। এই ক্ষেতের আয়ের ওপরই আমার পরিবারের সংসার চলছিল। সকালে এসে দেখি সব গাছের গোড়া কেটে দিয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে আমার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল। গত বছরও একইভাবে আমার লাউক্ষেত কেটে দেওয়া হয়েছিল। এবারও একই ঘটনা ঘটল।”
তিনি আরও জানান, ক্ষেতের পরিচর্যা, সার, বীজ, সেচ ও শ্রমিকের পেছনে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়েছে। ফলন্ত অবস্থায় ক্ষেতটি নষ্ট হওয়ায় তিনি মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, “গত বছরও এই কৃষকের একই জমির লাউক্ষেত নষ্ট করা হয়েছিল। এবারও দুর্বৃত্তরা রাতের আঁধারে গাছের গোড়া কেটে দিয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন কৃষকের কষ্টের ফসল এভাবে নষ্ট করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা।”
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে শৈলকূপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবির বলেন, “লাউক্ষেত কেটে দেওয়ার বিষয়টি শুনেছি। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আলমগীর হোসেন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, কৃষকের ফসল নষ্ট করার মতো এমন নাশকতামূলক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *