জীবননগর অফিস:
চুয়াডাঙ্গা জেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ হিসেবে প্রথমবারের মতো সংক্ষিপ্ত বিচার (সামারি ট্রায়াল) কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে জেলার বিভিন্ন থানায় পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার হওয়া ১২১ জন আসামিকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে দ্রুত বিচার শেষে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, দ্রুত বিচার ও তাৎক্ষণিক সাজা কার্যকর হওয়ার ফলে মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের মধ্যে আইনভীতি তৈরি হয়েছে এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলার পাঁচটি থানায় পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে গ্রেফতার হওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে দর্শনা থানায় ২৪ জন, দামুড়হুদা মডেল থানায় চারজন, জীবননগর থানায় ১৬ জন, আলমডাঙ্গা থানায় ৩৮ জন এবং চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় ৩৯ জন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
আদালত আসামিদের অপরাধের ধরন ও গুরুত্ব বিবেচনায় সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের আদেশ দেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রচলিত আইনের আওতায় যেসব মামলায় সংক্ষিপ্ত বিচার প্রযোজ্য, সেসব মামলায় দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, অতীতে মাদক মামলার অনেক আসামি গ্রেফতারের পর অল্প সময়ের মধ্যেই জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় একই অপরাধে জড়িয়ে পড়তেন। তবে বর্তমানে দ্রুত বিচার ও সাজা কার্যকরের ফলে অপরাধীদের মধ্যে আইনভীতি সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে মাদকসংক্রান্ত অপরাধে জড়ানোর প্রবণতা কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জেলা পুলিশের তথ্যমতে, মাদক নির্মূলের লক্ষ্যে নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং আইনি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। মাদক পাচার, বিক্রি ও সেবনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তথ্যভিত্তিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবির খান বলেন, জেলার কোথাও মাদক ব্যবসা বা মাদকসেবনের সুযোগ দেওয়া হবে না। মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “যে কোনো মূল্যে মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনা হবে। অভিযান, গ্রেফতার এবং দ্রুত বিচার কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চলবে।”
তিনি আরও বলেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মাদকবিরোধী সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জনসম্পৃক্ততাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মাদক নির্মূলে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করে তিনি যেকোনো তথ্য পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দ্রুত বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত হলে মাদকসংক্রান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব। তবে অপরাধবিজ্ঞানীরা দীর্ঘমেয়াদে মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা, পুনর্বাসন এবং সামাজিক প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে থাকেন।