মহেশপুরপ্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গোকুলনগর বিএডিসি কৃষি খামারে নির্মাণাধীন একটি আরসিসি (রিইনফোর্সড সিমেন্ট কংক্রিট) সড়কের কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটিতে নিম্নমানের ইট, বালু, পাথর ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সরুপপুর ইউনিয়নের গোকুলনগর বিএডিসি কৃষি খামারে সড়কটি নির্মাণের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমআরপি ট্রেডার্স। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজের শুরু থেকেই নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর তদারকি করছে না। ফলে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করেই কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ইটের একটি বড় অংশ স্থানীয়দের ভাষ্যমতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির। এছাড়া বালু ও পাথরের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। তাদের আশঙ্কা, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং সরকারি অর্থের অপচয় হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, কাজের মান নিয়ে তাদের আপত্তি থাকলেও বিভিন্ন কারণে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। তারা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাই এবং প্রকল্পের কাজের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরত ম্যানেজার আশরাফ ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা প্রকল্পের ইস্টিমেট ও প্রকৌশলগত নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছি। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই।”
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, বর্তমানে দেশে মানসম্মত পাথরের কিছুটা সংকট রয়েছে। এ কারণে সরবরাহকৃত কিছু পাথরের মান নিয়ে সমস্যা দেখা দিলেও কাজ প্রকল্পের নির্ধারিত মান বজায় রেখেই সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।
এদিকে বিএডিসির প্রকৌশলী মো. মামুন হোসেন বলেন, “আমি নির্মাণস্থল পরিদর্শন করে ইস্টিমেট অনুযায়ী কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি। কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করা হবে এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রয়োজনে এটি আরও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বা জাতীয় দৈনিকের উপযোগী ভাষায়ও সাজিয়ে দিতে পারি।