আবু সাইদ শওকত আলী,ঝিনাইদহ:
কালো-সাদা ৬৪ ঘরের ক্যানভাসে প্রখর বুদ্ধিমত্তা, দূরদর্শী পরিকল্পনা আর একের পর এক ক্ষুরধার চালের উত্তেজনাকর লড়াইয়ে মুখরিত হয়ে উঠেছিল ঝিনাইদহের মনোরম জোহান ড্রীম ভ্যালি পার্ক। ঝিনাইদহ দাবা উন্নয়ন সংস্থার আয়োজন এবং বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহযোগিতায় রোববার অনুষ্ঠিত ‘মাইন্ড জিনিয়াস চেস একাডেমি আন্তর্জাতিক র্যাপিড দাবা টুর্নামেন্ট’-এ মননশীল যুদ্ধের চূড়ান্ত কিস্তিমাত ঘটিয়ে অনূর্ধ্ব-১৪ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন হুনায়েফ জাহান রাবিদ। অন্যদিকে, বিভাগীয় পর্যায়ের বয়সভিত্তিক দাবা প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট অর্জন করেছেন ক্যান্ডিডেট মাস্টার (সিএম) আবজিদ রহমান।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মেধাভিত্তিক ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করা এই টুর্নামেন্টে খুলনা, ফরিদপুর, যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও মাগুরা—এই ৮টি জেলার ৭৭ জন উদীয়মান ক্ষুদে দাবাড়ু অংশগ্রহণ করে। ৬৪ খোপের বোর্ডে রাজা, মন্ত্রী ও ঘোড়ার চালের টান টান উত্তেজনায় প্রতিটি ম্যাচই হয়ে ওঠে দর্শনীয়।
প্রতিযোগিতা শেষে এক আলোঝলমলে পরিবেশ ও মুহুর্মুহু করতালির মধ্য দিয়ে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। টুর্নামেন্টে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করা ২৬ জন দাবাড়ুকে নগদ অর্থ পুরস্কার প্রদান করা হয়। পাশাপাশি মেধা ও ক্রীড়াশৈলীর স্বীকৃতিস্বরূপ অংশগ্রহণকারী ৭৭ জন ক্ষুদে খেলোয়াড়ের প্রত্যেকের হাতে ট্রফি, আকর্ষণীয় টি-শার্ট ও সম্মাননা সনদপত্র তুলে দেন অতিথিরা।
সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষক মাজিদুল হক নয়ন, গোল্ডেন এগ্রোভেটের জাহিদ হাসান, লাইফওয়ে ক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম, টুর্নামেন্ট অর্গানাইজার ও দাবা উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর কুড়োন এবং গ্লোরি এগ্রোপেস্ট-এর নির্বাহী পরিচালক আক্তারুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মোবাইল বা ডিজিটাল ডিভাইসের আসক্তি ছেড়ে উদীয়মান প্রজন্মকে মননশীল চিন্তার মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে দাবার বিকল্প নেই। তৃণমূল থেকে উদীয়মান আন্তর্জাতিক মানের দাবাড়ু ও গ্র্যান্ডমাস্টার তৈরি করতে এমন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট নিয়মিত আয়োজন অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন আয়োজকেরা।