দর্শনায় মাদকবিরোধী অভিযানে ব্যবসায়ী ও তিন সেবক আটক, আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

দর্শনা প্রতিনিধি:

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানা এলাকায় মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে একজন মাদক ব্যবসায়ী ও তিনজন মাদকসেবীকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় এক আসামির কাছ থেকে দুই পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে মাদকসেবনের অভিযোগে আটক তিনজনের ডোপ টেস্ট করা হলে তাদের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। আটক চারজনকে আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সংক্ষিপ্ত বিচার আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নজরুল ইসলাম-এর তত্ত্বাবধানে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট ২০২৬ রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দর্শনা থানার এসআই (নিঃ) মোল্যা আরিফুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে আজিমপুর মাঠপাড়া সংলগ্ন নাসিরের কলাবাগানে অভিযান পরিচালনা করেন। সেখানে মাদক সেবনরত অবস্থায় মো. নাসির হোসেন (৪৫) ও আব্দুল ওদুদ (৫০)-কে আটক করা হয়। নাসির হোসেন আজিমপুর গ্রামের মো. আরফান মিয়ার ছেলে এবং আব্দুল ওদুদ একই গ্রামের আব্দুল আলী হোসেনের ছেলে।
পরবর্তীতে ১৪ আগস্ট ভোর ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দর্শনা থানাধীন খাড়াগোদা গ্রামে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ধৃত আসামি মো. মাসুদ রানার বাড়ির সামনের পাকা রাস্তা থেকে মাদক সেবনের অভিযোগে মো. মাসুদ রানা (৩৫)-কে আটক করা হয়। তিনি খাড়াগোদা গ্রামের সানোয়ার হোসেনের ছেলে।
এদিকে একই দিন সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে দর্শনা থানাধীন মোবারকপাড়া গ্রামের রেশমা নামে এক নারীর মুদি দোকানের সামনে পাকা রাস্তায় মাদকসহ অবস্থানকালে স্থানীয় লোকজন মো. সোনা মিয়া (৩৫)-কে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।
পুলিশ জানায়, সোনা মিয়ার দেহ তল্লাশি করে তার পরনে থাকা কালো গেঞ্জির বুক পকেট থেকে সাদা পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। ইয়াবাগুলো জব্দ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আটক নাসির হোসেন, আব্দুল ওদুদ ও মাসুদ রানা-কে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে ডোপ টেস্ট করানো হয়। পরীক্ষায় তাদের মাদক গ্রহণের প্রমাণ পাওয়া যায় এবং তিনজনের ডোপ টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ আসে।
পরে আটক চারজনকে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচারের জন্য বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সংক্ষিপ্ত বিচার আদালত)-এর আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত মো. সোনা মিয়াকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন।
এছাড়া মো. নাসির হোসেন, আব্দুল ওদুদ ও মো. মাসুদ রানা প্রত্যেককে দুই মাসের কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও সাত দিন করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক ব্যবসা, সেবন ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *