জীবননগরে ফুটবল একাডেমির শুভ উদ্বোধন

নতুন প্রজন্মকে মাঠমুখী করে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরির উদ্যোগ
জীবননগর অফিস:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে নতুন প্রজন্মকে ফুটবলের প্রতি আগ্রহী করে তোলা, স্থানীয় ফুটবলের হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার এবং সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গড়ে তোলার লক্ষ্যে জীবননগর ফুটবল একাডেমির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে একাডেমিটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এ উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী ও ফুটবল অনুরাগীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।
আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, জীবননগরে একসময় ফুটবলের ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল। বিভিন্ন মাঠে নিয়মিত ফুটবল খেলা ও প্রতিযোগিতার আয়োজন হতো। সময়ের সঙ্গে নানা কারণে মাঠকেন্দ্রিক খেলাধুলার চর্চা কিছুটা কমে যাওয়ায় নতুন প্রজন্মের অনেকেই খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। বিশেষ করে মোবাইল ফোন ও অনলাইননির্ভর বিনোদনের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি তরুণদের মাঠবিমুখ করে তুলছে। এমন বাস্তবতায় শিশু-কিশোর ও তরুণদের মাঠে ফিরিয়ে আনতে এই ফুটবল একাডেমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আয়োজকরা জানান, জীবননগর ফুটবল একাডেমি শুধু ফুটবল শেখানোর একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং একটি নিয়মিত ক্রীড়া চর্চার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বয়স ও দক্ষতা অনুযায়ী খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা, দলগত সহযোগিতা, শারীরিক সক্ষমতা ও খেলাধুলার মৌলিক কৌশল শেখানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে।
একাডেমির উদ্যোক্তারা আরও বলেন, নিয়মিত অনুশীলন ও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলা ও খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতা গড়ে তোলা হবে। ভবিষ্যতে যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ার প্রত্যাশাও রয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব শাহজাহান কবির, আব্দুস সামাদ, সাইফুর রহমান সেন্টু, আব্দুস সবুর, রবিউল ইসলাম রবি, মিঠু, সুমন, শাওন, মিনাজুল ইসলাম মিনা, জসী, বিল্লাল, মোমিন স্যার, খবির, রমিজসহ স্থানীয় ক্রীড়ানুরাগী, ফুটবলপ্রেমী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি এলাকার ক্রীড়া উন্নয়নে শুধু একটি একাডেমি প্রতিষ্ঠা করাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নিয়মিত প্রশিক্ষণ, দক্ষ প্রশিক্ষক, মাঠের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা, খেলোয়াড়দের উৎসাহ এবং স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা। এসব বিষয় নিশ্চিত করা গেলে জীবননগর থেকে ভবিষ্যতে ভালো মানের ফুটবলার উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
তারা আরও বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদক, অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও অতিরিক্ত মোবাইলনির্ভরতা থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। ফুটবল একাডেমির মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের নিয়মিত মাঠমুখী করার পাশাপাশি তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার চেষ্টা করা হবে।
আয়োজকরা জানান, সম্মিলিত উদ্যোগ, স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের সহযোগিতা এবং খেলোয়াড়দের নিয়মিত অনুশীলন অব্যাহত থাকলে জীবননগরের মাঠ থেকেই একদিন জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরি করা সম্ভব। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে জীবননগর ফুটবল একাডেমির কার্যক্রম ধীরে ধীরে আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *