বড়লেখায় ইলেকট্রিশিয়ানের আত্মহত্যা: নার্সকে ঘিরে গুঞ্জন নিয়ে ডা. তানভীরের ব্যাখ্যা

অলিউর রহমান,বড়লেখা(মৌলভীবাজার):

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ইলেকট্রিশিয়ান ইলিয়াছ হোসাইনের (৩৮) আত্মহত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া পলি ক্লিনিকের স্টাফ নার্স লাক্সমী রংডিকে (২৪) ঘিরে বিভিন্ন গুঞ্জনের বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন ক্লিনিকটির মেডিকেল অফিসার ডা. তানভীর আহমেদ।
স্থানীয় একটি সূত্রের বরাত দিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনে বলা হচ্ছিল, ক্লিনিক থেকে লাক্সমীকে অব্যাহতি না দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনার জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তবে ডা. তানভীর আহমেদ এ ধরনের বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করেছেন।
ডা. তানভীর বলেন, পলি ক্লিনিকের প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী লাক্সমীকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়েছে। তার চাকরি ছাড়ার বিষয়ে কোনো ধরনের বাধা বা জটিলতা তৈরি করা হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, “প্রায় ৩-৪ মাস আগে লাক্সমী রংডি আমার কাছে এসে জানান, তিনি ঢাকায় একটি চাকরির জন্য আবেদন করতে চান এবং আবেদনের জন্য অভিজ্ঞতার সনদ প্রয়োজন। আমি তাকে আশ্বস্ত করি এবং পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী তাকে অভিজ্ঞতার সনদ দেওয়া হয়। তিনি ওই সনদ দিয়ে চাকরির জন্য আবেদনও করেন। তবে পরবর্তীতে তিনি সেখানে চাকরি পেয়েছেন কি না, সে বিষয়ে আমার কাছে আর কোনো তথ্য ছিল না।”
ডা. তানভীর আরও জানান, ক্লিনিকের নিয়ম অনুযায়ী কোনো কর্মী চাকরি ছাড়তে চাইলে সাধারণত অন্তত এক মাস আগে কর্তৃপক্ষকে লিখিত বা মৌখিকভাবে অবহিত করতে হয়। লাক্সমীও জানিয়েছিলেন, নতুন চাকরি চূড়ান্ত হলে তিনি নিয়ম অনুযায়ী এক মাস আগে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাবেন। ফলে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি না দেওয়ার যে কথা ছড়িয়েছে, তা সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।
ইলেকট্রিশিয়ান ইলিয়াছ হোসাইনের সঙ্গে নার্স লাক্সমীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. তানভীর বলেন, তাঁদের মধ্যে কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি বা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ অবগত ছিলেন না।
ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আত্মহত্যার ঘটনাটি তদন্তে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। তদন্তে প্রমাণিত তথ্যের ভিত্তিতেই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটিত হবে বলেও তারা জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১১ আগস্ট রাতে বড়লেখা পৌর এলাকার মুড়িরগুল গ্রামে নিজ বাড়িতে গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন ইলিয়াছ হোসাইন। এ ঘটনায় তাঁর বাবা বাদী হয়ে বড়লেখা থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলার ভিত্তিতে পুলিশ পলি ক্লিনিকের স্টাফ নার্স লাক্সমী রংডিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে বড়লেখা থানা পুলিশ। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *