জীবননগর অফিস:
‘শহর থেকে গ্রামে, ডাক্তার এখন কাছে’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য বিনামূল্যে সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। চিকিৎসাসেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে উপশম প্লাসের উদ্যোগে এ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।
সোমবার (২৩ আগস্ট) জীবননগর উপজেলার বাঁকা ব্রিক ফিল্ড মোড়ের যাত্রী ছাউনির পেছনে অবস্থিত মা-বাবার দোয়া মেডিকেল হলে দিনব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় বিভিন্ন বয়সী মানুষ এতে অংশ নিয়ে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসকদের পরামর্শ গ্রহণ করেন।
আয়োজকরা জানান, গ্রামীণ অঞ্চলের অনেক মানুষ সময়, অর্থ ও যোগাযোগের সীমাবদ্ধতার কারণে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা কিংবা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন না। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শহরকেন্দ্রিক চিকিৎসাসেবাকে প্রযুক্তির সহায়তায় প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচিতে সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি বিনামূল্যে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া পিক-ফ্লো মিটারের মাধ্যমে রোগীদের ফুসফুসের কার্যকারিতা ও শ্বাস-প্রশ্বাসের সক্ষমতা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নেওয়া হয়। পরীক্ষার ফলাফল ও রোগীর শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করেন চিকিৎসকরা।
স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে চিকিৎসক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. শুভজিৎ পাইক, এমবিবিএস, পিজিটি—শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল এবং ডা. আরশী তাসনীম, এমবিবিএস, মেডিকেল অফিসার, উপশম প্লাস, বনানী, ঢাকা।
কর্মসূচির অন্যতম দিক ছিল টেলিমেডিসিনভিত্তিক চিকিৎসা পরামর্শ। এর মাধ্যমে জীবননগরের রোগীদের ঢাকায় অবস্থানরত চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শের সুযোগ তৈরি করা হয়। এতে দূরবর্তী এলাকার রোগীদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতামত পাওয়ার ক্ষেত্রে সময় ও যাতায়াতের ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে আয়োজকরা জানান।
আয়োজকদের ভাষ্য, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ অনেক রোগের ঝুঁকি শনাক্ত করতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যার মতো দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার বিষয়ে উৎসাহিত করাও এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডা. মারুফ হোসেন, অগ্রণী গবেষক, ফেম পিবিএক্স, ফেমআইটি এবং ব্রাইট লাইট একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা।
আয়োজকরা বলেন, স্বাস্থ্যসেবা শুধু শহরকেন্দ্রিক না রেখে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছেও সহজলভ্য করা প্রয়োজন। প্রযুক্তির ব্যবহার ও স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে এ ব্যবধান কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব। এ লক্ষ্যেই ভবিষ্যতে জীবননগরসহ অন্যান্য গ্রামীণ এলাকাতেও পর্যায়ক্রমে এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রত্যন্ত এলাকায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় কর্মসূচিটি সাধারণ মানুষের জন্য উপকারী হয়েছে। বিশেষ করে যাদের নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সুযোগ সীমিত, তারা এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেয়েছেন।