বিশেষ প্রতিবেদক:
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার হালদারপাড়া সীমান্ত এলাকায় ৯২টি সোনার বারসহ এক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। আটক ব্যক্তির কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া সোনার বারগুলোর মোট ওজন ১১ কেজি ২৮১ দশমিক ৭৭০ গ্রাম। বিএসএফের দাবি অনুযায়ী, উদ্ধার করা সোনার বাজারমূল্য ১৭ কোটি ৪০ লাখ ভারতীয় রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে বিএসএফের ৩২ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন হালদারপাড়া বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) এলাকায় নিয়মিত টহলের সময় সন্দেহভাজন ওই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়।
বিএসএফ সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শনিবার রাতে সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় ওই ব্যক্তির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে বিএসএফ সদস্যরা তাকে থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সোনার বার উদ্ধার করা হয়। পরে সোনার বারগুলো জব্দ করে আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
বিএসএফের হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ৯২টি সোনার বারের মোট ওজন ১১ কেজি ২৮১ দশমিক ৭৭০ গ্রাম। উদ্ধার হওয়া সোনার আনুমানিক মূল্য ১৭ কোটি ৪০ লাখ ভারতীয় রুপি বলে জানানো হয়েছে।
আটক ব্যক্তির পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি বিএসএফ। তবে স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের দাবি, আটক ব্যক্তি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামের মো. এছোম মন্ডলের ছেলে খবির উদ্দিন (৩২)।
স্থানীয়দের ভাষ্য,খবির উদ্দিনসহ মোট চারজন সীমান্ত এলাকায় গিয়েছিলেন। খবির উদ্দিন ভারতে প্রবেশের পর বিএসএফের হাতে আটক হলেও তার সঙ্গে থাকা অপর তিনজন কোনোভাবে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদের পরিচয় বা ঘটনার বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
আটকের পর বিএসএফ সদস্যরা খবির উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে তাকে স্থানীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে উদ্ধার করা সোনার উৎস, চালানের গন্তব্য, সীমান্ত পারাপারের পদ্ধতি এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখছে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বিপুল পরিমাণ সোনার এই চালান আটকের ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানবিরোধী তৎপরতা ও নজরদারি আরও জোরদার করেছে বিএসএফ। এত বড় চালানের সঙ্গে সংঘবদ্ধ কোনো চোরাচালানচক্র জড়িত কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, “বিএসএফের সঙ্গে কথা হয়েছে। এক বাংলাদেশি নাগরিক বিপুল পরিমাণ সোনাসহ আটক হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। দর্শনা সীমান্ত এলাকার কামারপাড়ায় তার বাড়ি।”
সীমান্ত দিয়ে বিপুল পরিমাণ সোনা আটকের এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গার সীমান্তবর্তী এলাকাতেও চোরাচালান নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে আটক ব্যক্তির সঙ্গে সোনার চালানের সম্পৃক্ততা এবং এ ঘটনায় আরও কারা জড়িত, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।