মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় অবস্থিত প্রায় ২ হাজার ৭৩৭ একর আয়তনের ঐতিহ্যবাহী দত্তনগর কৃষি ফার্মকে আন্তর্জাতিক মানের কৃষি ও গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের প্রস্তাব নিয়ে কৃষিমন্ত্রী ও কৃষি সচিবের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) অ্যাটর্নি জেনারেল পৃথকভাবে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ও কৃষি সচিব মো. সালিম খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ প্রস্তাব তুলে ধরেন। কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি এবং মহেশপুর-কোটচাঁদপুরের সাবেক ছাত্রনেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ববর্তী সময়ে মহেশপুর ও কোটচাঁদপুরের উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়কালে দত্তনগর কৃষি ফার্মকে আন্তর্জাতিক মানের কৃষি ও গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবি উঠে আসে। এ ধরনের একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হলে কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের কৃষি শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে তরুণদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং এ অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিরও বিকাশ ঘটবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কৃষিমন্ত্রী প্রস্তাবটি মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং কৃষিকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে এর সামঞ্জস্যের বিষয়টি তুলে ধরেন। এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল দত্তনগর কৃষি ফার্মসহ মহেশপুর ও কোটচাঁদপুরের বিস্তীর্ণ কৃষি অঞ্চল সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য কৃষিমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান। কৃষিমন্ত্রী তাঁর সুবিধাজনক সময়ে এলাকা পরিদর্শনের আশ্বাস দেন।
আলোচনায় মহেশপুর ও কোটচাঁদপুরের কৃষির সম্ভাবনার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এ অঞ্চলের মাটি অত্যন্ত উর্বর। ধান ও সবজির পাশাপাশি আম, আঙুর, ড্রাগন ফল, পেয়ারা, কলাসহ বিভিন্ন ধরনের ফল ও কৃষিপণ্য উৎপাদিত হচ্ছে। তবে এসব কৃষিপণ্য, বিশেষ করে ফলমূল সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার ও আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
তিনি এ অঞ্চলে আধুনিক সংরক্ষণাগার ও হিমাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানান। কৃষিমন্ত্রী বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
পরে কৃষি সচিব মো. সালিম খানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। এ সময় দত্তনগর কৃষি ফার্মকে আন্তর্জাতিক মানের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করার প্রস্তাব তুলে ধরা হলে কৃষি সচিব বিষয়টির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন। উদ্যোগটি বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।
এ ছাড়া উভয় সাক্ষাতে কোটচাঁদপুরের বলুহর মৎস্য প্রজনন ও গবেষণা কেন্দ্রকে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা কেন্দ্রে রূপান্তরের বিষয়টিও তুলে ধরেন অ্যাটর্নি জেনারেল। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে সুপারিশ প্রেরণের আশ্বাস দেওয়া হয়।
স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার প্রেক্ষাপটে দত্তনগর কৃষি ফার্মকে আন্তর্জাতিক মানের কৃষি শিক্ষা ও গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের এ উদ্যোগকে সম্ভাবনাময় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।