জামায়াতের বিরুদ্ধে ভারতের সঙ্গে গোপন যোগাযোগের অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

আবু সাইদ শওকত আলী,ঝিনাইদহ:

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, জামায়াতের নেতারা বিএনপির বিরুদ্ধে ভারতের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক মিথ্যাচার করছেন। অথচ নির্বাচনের আগে ভারতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে জামায়াতের নেতাদের বৈঠক হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ডিসেম্বর মাসে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে জামায়াত অপতৎপরতা শুরু করেছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) জুমার নামাজ আদায় শেষে ঝিনাইদহ শহরের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে স্থানীয়দের সঙ্গে কুশলবিনিময়কালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ খাঁন বলেন, “জামায়াতের সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার বারবার রাজনৈতিক মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। তিনি বিএনপির ওপর দায় চাপাচ্ছেন, বিএনপি নাকি ভারতের সঙ্গে আঁতাত করেছে। কিন্তু দেশের মানুষ জানে, নির্বাচনের আগে ভারতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে রাতের আঁধারে মিটিং করেছিল জামায়াত। তারা এখনো ভারতের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগকে ফেরাতে জামায়াত এই অপতৎপরতা শুরু করেছে।”

পাহাড়ের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

পার্বত্য অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, পাহাড়কে অশান্ত করার চক্রান্ত চলছে। সেখানে ঘোলাটে পরিস্থিতি তৈরি করতে নানা ধরনের গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, “দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী পাহাড়ের স্থিতিশীলতার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পাহাড়ের নিরীহ সাধারণ বাসিন্দারাও স্থিতিশীলতা চায়। কিছু বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী প্রতিবেশী দেশের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীদের পৃষ্ঠপোষকতায় এই বিশৃঙ্খলা করছে। সরকার এই বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই সহ্য করবে না।”

জামায়াতের লংমার্চ সফল হবে না: রাশেদ খাঁন

জামায়াতের খুলনা বিভাগীয় লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, দলটি এর আগে রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও রংপুর অভিমুখে লংমার্চ করেছে। তবে জামায়াত-এনসিপির এসব কর্মসূচি জনগণ গ্রহণ করেনি বলে দাবি করেন তিনি।

রাশেদ খাঁন বলেন, “জনগণ জামায়াতের কোনো কর্মসূচিতেই সাড়া দেবে না। খুলনার লংমার্চও সফল হবে না। জামায়াত জনগণের কল্যাণে কোনো কর্মসূচি দেয় না। কাজেই তাদের লংমার্চ নিয়ে সরকার কোনো কিছু ভাবছে না।”

রুমিন ফারহানাকে নিয়ে মন্তব্য
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, রুমিন ফারহানা আগে আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করতেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এনসিপি ও জামায়াতের সমালোচনাও করতেন। তখন বিএনপির প্রতি তাঁর ইতিবাচক মনোভাব ছিল।

রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, “কিন্তু যখনই তিনি বিএনপির মনোনয়ন পেলেন না, সেদিন থেকেই তিনি আওয়ামী লীগের ভাষায়, শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলা শুরু করেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি থানায় গিয়ে ওসিকে তিনি ‘চোর’ বলে মব সৃষ্টি করেছেন। রুমিন ফারহানা রাজনৈতিকভাবে বিএনপি থেকে ছিটকে পড়েছেন।”

এর আগে শুক্রবার দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। এ সময় ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ঝিনাইদহ জেলা সভাপতি ডা. মো. হাসানুজ্জামানসহ স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *