অপুদাস,ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে ভোট আদায়ের অভিযোগ যখন বিভিন্ন এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রে, ঠিক সেই প্রেক্ষাপটে ঝিনাইদহ-১ আসনে এক ব্যতিক্রমী ও দৃষ্টান্তমূলক বক্তব্য দিলেন ধানের শীষের প্রার্থী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান। ভোট চাইতে গিয়ে তিনি নিজের দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে বলেন,ভোটের বিনিময়ে ধর্মীয় প্রলোভন বা তথাকথিত ‘বেহেশতের টিকিট’ দেখানো যাবে না।
শুক্রবার শৈলকুপা উপজেলার ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণাকালে আয়োজিত এক পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ভোটারদের বিভ্রান্ত করে ধর্মকে হাতিয়ার বানানো গণতান্ত্রিক রাজনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো কর্মী যদি অতিউৎসাহী হয়ে ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে ভোট আদায়ের চেষ্টা করেন, তবে তা মেনে নেওয়া হবে না।
অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, ভোট হতে হবে উন্নয়ন, ন্যায়বিচার এবং মানুষের মৌলিক ও নাগরিক অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য জনগণের সেবা করা-ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটা নয়।
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, নির্বাচিত হলে ঝিনাইদহ-১ আসনের অবহেলিত জনপদের সার্বিক উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তার অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন
আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করা।তিনি আরও বলেন,“আমরা জনগণের কাছে এসেছি তাদের অধিকার আদায়ের অঙ্গীকার নিয়ে। কোনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি বা ধর্মীয় আবেগ উসকে দিয়ে ভোট চাইব না।”
সাবেক এই শীর্ষ আইনজীবীর স্পষ্ট ও সোজাসাপ্টা বক্তব্য স্থানীয় রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পথসভায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও তার বক্তব্য ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী প্রচারণায় এমন বস্তুনিষ্ঠ ও নীতিগত অবস্থান ভোটারদের আস্থার জায়গা আরও দৃঢ় করতে পারে এবং রাজনীতিতে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিতে সক্ষম।