ভোট কেনার অভিযোগ চাপা দিয়ে ছড়ানো হলো খণ্ডিত ভিডিও

পরিকল্পিত অপপ্রচারে ঝিনাইদহ-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী এম এ মজিদ ও তার ব্যক্তিগত গাড়ি চালকের নাম জড়ানোর চেষ্টা

আবু সাইদ শওকত আলী:বিশেষ প্রতিনিধি:-
নির্বাচনী রাজনীতিতে ধর্ম, নারী ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে হাতিয়ার বানিয়ে একটি পরিকল্পিত অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি খণ্ডিত ভিডিও ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে এটি কি নিছক বাকবিতণ্ডার দৃশ্য, নাকি এর আড়ালে রয়েছে ভোট কেনা ও রাজনৈতিক ফায়দা লুটার সুপরিকল্পিত চক্রান্ত?

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন মহিলা কর্মী ঝিনাইদহ-২ আসনের মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদের ব্যক্তিগত গাড়িচালক রাসেল চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি কালীচরণপুর ইউনিয়নের উত্তর কাষ্টসাগরা গ্রামে যান। প্রথমে স্বাভাবিক কথাবার্তার মধ্যেই তারা রাসেলের স্ত্রীর কাছে জামায়াতের পক্ষে ভোট চান। একপর্যায়ে ভোটের বিনিময়ে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই নারীর ওপর চাপ বাড়ানো হয় এবং কোরআন শরিফে শপথ করিয়ে ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতির চেষ্টা করা হয়। ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের এমন চেষ্টা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। রাসেলের স্ত্রী বিষয়টিতে রাজি না হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তার চিৎকার শুনে রাসেল ঘটনাস্থলে এসে প্রশ্ন করেন কেন অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনার চেষ্টা ও ধর্মীয় গ্রন্থ ব্যবহার করে শপথ করানোর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে? ঠিক তখনই উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

এখানেই ঘটনার নতুন মোড় ঘোরে। ওই বাকবিতণ্ডার একটি অংশ গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয় এবং পরবর্তীতে সেটির খণ্ডিত সংস্করণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ভিডিওতে নেই ভোট কেনার প্রস্তাবের দৃশ্য,নেই কোরআন শরিফে শপথ করানোর চাপের অংশ। আছে শুধু উত্তেজিত বাক্যবিনিময় যা দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো এই ভিডিওকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিএনপি নেতা এম এ মজিদের নাম জড়িয়ে দেওয়া। অথচ ঘটনাস্থলে তিনি উপস্থিত ছিলেন না,এমনকি ঘটনার সঙ্গে তার সরাসরি কোনো সংশ্লিষ্টতার প্রমাণও সামনে আসেনি।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী রাসেল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“আমাদের বাড়িতে এসে ভোট কেনার চেষ্টা করা হলো, ধর্মীয় শপথের চাপ দেওয়া হলো এসব ভিডিওতে নেই। শুধু একটি অংশ কেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যেন ঝিনাইদহ -২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী এম এ মজিদ কে ভোট সামনে রেখে বিতর্কিত করা যায়।

স্থানীয় বিএনপির রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মতে, এম এ মজিদ ঝিনাইদহে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। তার জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নির্বাচনী মৌসুমে পরিকল্পিতভাবে এমন ঘটনা ঘটানো ঘটানো হয়েছে। তারা আরও বলেন, ব্যক্তিগত গাড়িচালককে টার্গেট করে তার পরিবারের ভেতরের একটি ঘটনাকে রাজনৈতিক অস্ত্র বানানোর একটা অপচেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছেন ভোট কেনার অভিযোগ থাকলে তার তদন্ত কেন হচ্ছে না? কোরআন শরিফের মতো পবিত্র গ্রন্থকে রাজনৈতিক চাপের হাতিয়ার বানানোর দায় কার? ভিডিও ধারণ ও প্রচারের পেছনে কারা, তাদের উদ্দেশ্যই বা কী? তারা মনে করছেন,পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ ও প্রশাসনিক তদন্ত ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো ভিডিও দেখে কাউকে দোষারোপ করা শুধু অন্যায় নয়, বরং গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্যও হুমকি।

এ ঘটনায় জড়িতদের পরিচয়, ভিডিও ধারণ ও ছড়ানোর নেপথ্য শক্তি এবং ভোট কেনার অভিযোগের সত্যতা উদঘাটনে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *