নিজস্ব প্রতিবেদক,সিলেট:-
সিলেট নগরীর শাহপরান থানাধীন পীরের বাজার,পীরের চক (মন্দির এলাকা) ও আখালিয়া এলাকায় অবৈধভাবে টিলা কাটা, সরকারি জায়গা দখল এবং পরিবেশ ধ্বংসের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নীরব ভূমিকা এবং প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় দিনের পর দিন চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুশিয়ারা হাউজিংয়ের শেষ প্রান্তে উত্তর দিকে অবস্থিত শ্বশান টিলা কেটে মাটি বিক্রির মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। অভিযোগে যাদের নাম উঠে এসেছে তারা হলেন—ছাদন মিয়া,জিয়া উদ্দিন জিরাই,কালা মিয়া, বদরুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন। স্থানীয়দের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত একাধিক ট্রাক দিয়ে টিলা কেটে মাটি পরিবহন করা হচ্ছে। এতে এলাকার সড়কগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে পীরের চক ১নং ও ২নং সড়কের বেহাল অবস্থা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, পরিবেশ অধিদপ্তর,উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উল্টো অভিযোগকারীরা বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকির মুখে পড়ছেন বলেও দাবি করেন তারা।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সরকারি শ্বশান টিলা কাটার পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি জায়গা দখল করে প্লট আকারে বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া তামাবিল হাইওয়ে সড়কের পাশে সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে ইট, বালু ও পাথরের ব্যবসাও পরিচালিত হচ্ছে। এতে পরিবেশ ও জননিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সিলেটের টিলা ও পাহাড় শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অংশ নয়, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অবাধে টিলা কাটার ফলে ভূমিধস, জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়ছে।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী। তারা অবৈধ টিলা কাটা বন্ধ,সরকারি জমি দখলমুক্ত করা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কেউ আনুষ্ঠানিক ভাবে মন্তব্য করেননি।