স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কথিত ‘পুশইন’ ইস্যুকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে উদ্বেগ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে বাংলা ভাষাভাষী নারী, পুরুষ ও শিশুকে ‘অবৈধ অভিবাসী’ বা ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ পরিচয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর দেশের বিভিন্ন সীমান্ত অঞ্চলের মতো চুয়াডাঙ্গা সীমান্তেও সতর্কতা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা, জীবননগর ও দামুড়হুদা উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত টহল, নজরদারি এবং গোয়েন্দা কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় রাতের আঁধারে লোকজনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় সীমান্তজুড়ে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সিসিটিভি নজরদারি এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সীমান্তবর্তী এলাকার জনপ্রতিনিধি, কৃষক ও সাধারণ জনগণকেও সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে বিজিবি। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন গ্রামে সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা ও প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সভাগুলোতে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুরোধ করা হয়েছে, কোনো অপরিচিত ব্যক্তি বা সন্দেহজনক চলাফেরা চোখে পড়লে দ্রুত বিজিবি ক্যাম্প কিংবা নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করতে।
চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের পরিচালক ও অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, “সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পারাপার রোধে বিজিবির নিয়মিত অভিযান এবং টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। সীমান্ত এলাকার কিছু অংশে পাটক্ষেত ও অন্যান্য ফসলি জমি থাকায় নজরদারিতে কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি হলেও অতিরিক্ত টহল ও বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “সীমান্ত এলাকায় কর্মরত কৃষকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কৃষিকাজ শেষ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম কিংবা পুশইনের কোনো সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।”
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার ফলে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবির চলমান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।