জীবননগর অফিস:
কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, পুষ্টি উন্নয়ন এবং তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) সকাল ১০টায় জীবননগর উপজেলা মডেল মসজিদ মিলনায়তনে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে “প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)” প্রকল্পের আওতায় এ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক আলমগীর বিশ্বাস। সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল, পার্টনার প্রকল্পের মনিটরিং অফিসার শেখ সাজ্জাদ হোসেন, মনিটরিং অফিসার হাসান আলী এবং উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সৈয়দ আব্দুর জব্বার।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা পাবেল রানা অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন।
এ সময় উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা নুর আলম, সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির উদ্দিন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহা আলম, মাহাবুব বিন সাদিক, মোর্শেদ বিল্লাহ, আজিজ, আলমগীর, ইয়াছিন আলী, নুরুজ্জামান, ইসমত আরা বকুলসহ বিভিন্ন ফিল্ড স্কুলের কৃষক-কৃষাণী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণে কৃষিকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও লাভজনক খাতে পরিণত করতে হবে। কৃষি জমির পরিমাণ দিন দিন কমে গেলেও উন্নত প্রযুক্তি, সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং বিজ্ঞানভিত্তিক চাষাবাদের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
তারা আরও বলেন, পার্টনার ফিল্ড স্কুলের মাধ্যমে কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে উত্তম কৃষি চর্চা, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, পুষ্টিসমৃদ্ধ ফসল চাষ এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। কৃষিকে শুধু পারিবারিক খাদ্য চাহিদা পূরণের মাধ্যম হিসেবে না দেখে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক পেশা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা তরুণদের কৃষিখাতে সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, যান্ত্রিকীকরণ ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।
অনুষ্ঠানে পার্টনার প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রম, সফল কৃষকদের অভিজ্ঞতা এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য বিভিন্ন প্রযুক্তি ও কৃষি উপকরণের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি, নিরাপদ সবজি উৎপাদন, পুষ্টিবাগান এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।

কংগ্রেস শেষে অংশগ্রহণকারী কৃষকরা মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রযুক্তির প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। আয়োজকরা জানান, এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ হ্রাস এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, ফিল্ড স্কুলভিত্তিক এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কার্যক্রম কৃষকদের বাস্তব সমস্যার সমাধান এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করছে। ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে এ প্রকল্প ইতিবাচক অবদান রাখছে।