চুয়াডাঙ্গা দর্শনা সীমান্তে ৬ বিজিবির বড় সাফল্য: ১৩ কোটি টাকার প্রায় ৭ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার আটক-১

বিশেষ প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে স্বর্ণ পাচার রোধে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) প্রায় ১৩ কোটি ৩২ লাখ ৬৩ হাজার টাকা মূল্যের ৬ কেজি ৯৬৮ গ্রাম ওজনের ৩৯ পিস স্বর্ণ উদ্ধার করেছে। এ সময় স্বর্ণ পাচারের অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে।

৬ বিজিবি সূত্র জানায়, চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ নাজমুল হাসান-এর কাছে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য আসে যে, দর্শনা উপজেলার পারকেষ্টপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ভারতে পাচারের চেষ্টা হতে পারে। তথ্যটি পাওয়ার পরপরই বিজিবি একটি বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়। পাশাপাশি একটি চৌকস টহল দল গোপনে সম্ভাব্য রুটে অবস্থান নেয়।

শনিবার (১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সীমান্ত পিলার ৭৮-এর দিকে মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে থামার সংকেত দেয় বিজিবি সদস্যরা। পরে তাকে আটক করে দেহ তল্লাশি চালানো হলে বিভিন্ন আকারের ৩৯ পিস স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।

বিজিবির হিসাব অনুযায়ী উদ্ধারকৃত স্বর্ণের মোট ওজন ৬ কেজি ৯৬৮ গ্রাম এবং এর আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩ কোটি ৩২ লাখ ৬৩ হাজার টাকা।

অভিযানকালে আটক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, একটি বাটন মোবাইল ফোন এবং নগদ ১৪০ টাকা জব্দ করা হয়। আটক ব্যক্তি মোঃ রবিউল ইসলাম (৩৪), তিনি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা উপজেলার ছয়ঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রবিউল ইসলাম উদ্ধারকৃত স্বর্ণ ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করছিলেন বলে স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে বিজিবি।

৬ বিজিবি আরও জানায়, আটক আসামি ও জব্দকৃত মোটরসাইকেল দর্শনা থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধারকৃত স্বর্ণ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গা ট্রেজারি অফিসে জমা দেওয়ার কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)-এর পরিচালক ও অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ নাজমুল হাসান বলেন, সীমান্ত দিয়ে স্বর্ণ ও অন্যান্য চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার ফলে পাচারকারীদের তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।

সীমান্ত এলাকায় স্বর্ণসহ বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান রোধে বিজিবির ধারাবাহিক অভিযান দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি অবৈধ বাণিজ্য দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *