ঝিনাইদহে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস উদযাপন

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
‘ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য নিশ্চিতকরণ: অপতথ্য রোধে তথ্য অধিকারের ভূমিকা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঝিনাইদহে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা প্রশাসক নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নারায়ণ চন্দ্র পাল, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখনসহ অন্যরা।
সভায় বক্তারা বলেন, তথ্য পাওয়া নাগরিকের গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণের কাছে সঠিক ও প্রয়োজনীয় তথ্য সহজলভ্য হলে সরকারি সেবার বিষয়ে নাগরিকদের সচেতনতা বাড়ে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় তথ্যের অবাধ ও নির্ভরযোগ্য প্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বক্তারা আরও বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে বর্তমানে খুব অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে যাচ্ছে। তবে একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যাচাই-বাছাই ছাড়া ভুল, বিভ্রান্তিকর ও অপতথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বেড়েছে। এ কারণে নাগরিকের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তথ্যের উৎস ও সত্যতা যাচাইয়ের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
তারা বলেন, নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী তথ্য সহজে পাওয়ার সুযোগ থাকলে গুজব ও অপতথ্যের বিস্তার প্রতিরোধে তা সহায়ক হতে পারে। এজন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ জনগণ—সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।
আলোচনায় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল মাধ্যমে নিয়মিত ও হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ, নাগরিকদের তথ্য প্রাপ্তির সুযোগ সহজ করা এবং তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশে নাগরিকের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ রয়েছে। এ আইনের আওতায় নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সরকারি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে থাকা বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তথ্য অধিকারকে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নাগরিক অংশগ্রহণের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বক্তারা গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধে নাগরিকদের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তথ্য প্রকাশ ও সরবরাহের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর ২৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস পালিত হয়। ইউনেস্কোর উদ্যোগে দিবসটি তথ্যের সর্বজনীন প্রবেশাধিকার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *