কোটচাঁদপুরে প্রতিবন্ধী ডিভোর্সি নারী ধর্ষণের অভিযোগ অটোভ্যান ব্যবসায়ী খোকনের বিরুদ্ধে গণজনে ক্ষোভ, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি পরিবার ও এলাকাবাসীর

গঞ্জেরখবর ডেস্ক:-

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়ায় এক প্রতিবন্ধী ডিভোর্সি নারীকে ধর্ষণের

অভিযোগ উঠেছে খোকন (৫০) নামে এক অটোভ্যান ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত খোকনের বাড়ি পারলাট গ্রামে, তিনি মৃত শামসুল হকের ছেলে।

পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত রমজান মাসে ঘটনাটি ঘটে। ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়ার

ওই প্রতিবন্ধী নারীর বাবার কাছে কিস্তিতে অটোভ্যান বিক্রি করেন খোকন। এ সুবাদে কিস্তির টাকা নিতে প্রায়ই তাদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার দিন রাতে ভুক্তভোগী নারীর বাবা-মা অটোভ্যান চার্জ দিতে বাড়ি থেকে কিছু দূরের ফুলবাড়ী বাজারে যান।

এই সুযোগে খোকন ঘরে ঢুকে প্রথমে ওই নারীকে টাকা ও সাহায্যের প্রলোভন দেখান এবং একপর্যায়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

ভুক্তভোগীর মা জানান, “খোকন দীর্ঘদিন ধরেই আমাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। আমি তাকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করলে সে আমার

প্রতিবন্ধী মেয়ের ওপর নির্যাতন চালায়। আমরা খুব অসহায়, দিনমজুর মানুষ।

এ ঘটনার পর সমাজে মুখ দেখাতে পারছি না। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।”

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিবেশীরা জানান, খোকনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। শুধু

ধর্ষণ নয়, তার বিরুদ্ধে অটো ভ্যান চুরি করে ভুয়া

ফিটনেস কাগজ বানিয়ে বিক্রিরও একাধিক অভিযোগ আছে। তবে এসব বিষয়ে কখনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানান স্থানীয়রা।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত খোকন মুঠোফোনে জানান, “এই অভিযোগ আগেও একজন আমাকে

জানিয়েছিল। আমার বয়স ৫০ বছর। আমি কীভাবে এমন কাজ করতে পারি? এসব মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এসব রটানো হচ্ছে।”

এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি

বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, সমাজের সচেতন মহল এবং নারী অধিকার কর্মীরা দ্রুত তদন্ত ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

জানিয়েছেন। তারা বলেন, “প্রতিবন্ধী ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।”

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *