জীবননগর খয়েরহুদায় সার ডিলারের বিরুদ্ধে কৃষককে নির্যাতনের অভিযোগে মানববন্ধন

জীবননগর অফিস :-

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার কেডিকে ইউনিয়নের খয়েরহুদা গ্রামে এক প্রান্তিক কৃষককে মারধরের অভিযোগে স্থানীয় সার ডিলার আরফান কবিরের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে সাধারণ কৃষকরা। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টার দিকে কেডিকে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

অভিযোগে জানা যায়, অভিযুক্ত  সার   ডিলার  আরফান কবির  খয়েরহুদা  গ্রামের কাসেম  মল্লিকের পুত্র এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সার বিতরণে অনিয়ম, দুর্নীতি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন বলে কৃষকদের অভিযোগ।

মানববন্ধনে উপস্থিত কৃষকরা জানান, আরফান কবির নিয়মিতভাবে সার কৃষকদের মধ্যে সরবরাহ না করে মজুদ করে রাখেন। পরে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সেই সার সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রি করেন। এর ফলে কৃষকরা নির্ধারিত সময়ে সার না পেয়ে চাষাবাদে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

ভুক্তভোগী কৃষক কাকন রেজা (২৬), মৃত আজিজ মন্ডলের ছেলে, অভিযোগ করে বলেন,আমি প্রান্তিক কৃষক হিসেবে কষ্টের মধ্যে জমিতে ফসল আবাদ করছি। গত সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সার কিনতে আরফান কবিরের দোকানে যাই। তিনি আমাকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করিয়ে সার না দিয়ে পরে আসতে বলেন।

পরে আবার গেলে ৫০ কেজি টিএসপি সার সরকার নির্ধারিত ১,৩৫০ টাকার পরিবর্তে ২,১০০ টাকা দাবি করেন। আমি প্রতিবাদ  করলে তিনি  লাঠি দিয়ে  আমাকে বেধড়ক মারধর করেন এবং বলেন, আমি বিএনপি করি বলে

আমাকে সার দেবেন না। স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

আরেক কৃষক আলী আকবর জানান, সার ডিলার ইচ্ছাকৃতভাবে সার মজুদ করে রাখেন। পরে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করেন। আমরা প্রতিবাদ করলে তিনি লোকজন নিয়ে কৃষকদের ওপর হামলা করেন।

মানববন্ধনে কৃষকরা দাবি করেন, আরফান কবির রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কৃষকদের হয়রানি করছেন। তাঁরা বলেন, তার অনিয়ম, দুর্নীতি ও কৃষক নির্যাতনের বিরুদ্ধে ডিলারশিপ বাতিল করতে হবে। আমরা চাই, সরকার যেন প্রান্তিক কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যবস্থা নেয়।

অভিযুক্ত ডিলার  আরফান  কবির তার  বিরুদ্ধে  আনা  সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,আমি সরকারি বিধিবদ্ধ ভাবে উপজেলার দায়িত্ব প্রাপ্ত একজন কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে কৃষকদের নিকট

সার বিক্রি করি।কিন্তু নিয়ম ভেঙে রাত সাড়ে ৯ টার দিকে কাকন নামে একজন আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে এসে তাকে সার দেয়া হয়নি কেন বলে হুমকি দিয়ে চলে যায়। এর আধা ঘণ্টা পর কাকনের নেতৃত্বে

১০-১২:জন যুবক আমার দোকানে হামলা চালিয়ে আমাকে ও আমার ছেলেকে মারধর ও দোকান ভাংচুর করে। আবার সেই কাকনই থানায় আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে শুনছি। মানববন্ধন হয়েছে কি-না জানি না।  আমি আসলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। 

এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিসার আলমগীর হোসেন বলেন,ঘটনার বিষয়ে আমার কোন কিছু জানা নেই। তবে লিখিত পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। কোন অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *