চার লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির আশঙ্কা, কৃষকের স্বপ্ন ধুলিসাৎ
জীবননগর অফিস:-
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে এক কৃষকের কলা ও ড্রাগন ফলের বাগান কেটে
দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে কৃষকের প্রায় চার লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত
কৃষক। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার হাসাদাহ ইউনিয়নের বৈদ্যনাথপুর গ্রামে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক শামীম আহমেদ (৩৫) ওই গ্রামের জামাল হোসেনের ছেলে। মঙ্গলবার সকালে নিজ
বাগানে গিয়ে গাছ কাটা অবস্থায় দেখতে পান তিনি। মুহূর্তেই কান্নায় ভেঙে পড়েন এই পরিশ্রমী কৃষক।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শামীম আহমেদ তার বাড়ির পাশে তিন বিঘা জমিতে প্রায় চার শতাধিক
কলা গাছ এবং এক বিঘা জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ করেছিলেন। ড্রাগন ও কলা গাছে প্রচুর ফল ধরেছিল।
কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বাজারজাত করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু সোমবার রাতে দুর্বৃত্তরা তার বাগানের শতাধিক কলা ও ড্রাগন গাছ কেটে দেয়।
এতে তার বাগানটি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়াও তার উস্তের বাঁধ বা বেড়ার কাঠামোতেও ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে তারা।
কৃষক শামীম আহমেদ বলেন,আমি শান্তিপ্রিয় মানুষ, কারো সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই।
তবুও কেউ আমার পরিশ্রমের ফল এক রাতে শেষ করে দিল। আমার প্রায় চার লক্ষ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে। এত বড় ক্ষতি আমি কীভাবে পুষিয়ে নেব বুঝতে পারছি না।
এ বিষয়ে হাসাদাহ ইউনিয়নের স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, শামীম একজন পরিশ্রমী ও সহজ-সরল কৃষক। তিনি কয়েক বছর ধরে কলা ও ড্রাগন
ফলের চাষ করে সংসার চালাচ্ছিলেন। গ্রামের সবাই তাকে পরিশ্রমী কৃষক হিসেবে চেনে। এমন নির্মম
ঘটনার পর পুরো এলাকায় নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকার কৃষকদ চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত অপরাধীদের
শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন,ফসলের সঙ্গে শত্রুতা করা অত্যন্ত
নিন্দনীয় ও মানবতাবিরোধী কাজ। ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব বা পারিবারিক বিরোধের কারণে কারো চাষের ফসল নষ্ট
করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে কৃষককে সহায়তা করার ব্যবস্থা নেব।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুন হোসেন বিশ্বাস বলেন,এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো
লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।