আবু সাইদ শওকত আলী,বিশেষ প্রতিনিধি:-
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার তালসার গ্রামে ক্ষুদ্র একটি জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক কৃষককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে
প্রতিপক্ষরা।এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৮ অক্টোবর (সোমবার) সন্ধ্যার দিকে। আহত কৃষকের নাম মাসুদ হোসেন (৪২)। তিনি তালসার গ্রামের মৃত জালাল
উদ্দিনের ছেলে। বর্তমানে তিনি গুরুতর অবস্থায় কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,ওইদিন বিকেলে কৃষক মাসুদ হোসেন তার নিজস্ব ভুট্টাক্ষেতে কাজ
করছিলেন। এ সময় একই গ্রামের সামেদ আলী নামের এক ব্যক্তি তার গরু নিয়ে ভুট্টাক্ষেতের
ভেতর দিয়ে যাওয়ার ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বিষয়টি নিয়ে মাসুদ ক্ষতির কারণ জানতে
চাইলে সামেদ আলী ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েন।
পরে ওই ঘটনার জের ধরে সন্ধ্যায় সামেদ আলীর ছেলে আলামিন হোসেন,নাজমুল হোসেন
ও সাইফুল ইসলাম দেশীয় ধারালো অস্ত্র (হাসুয়া ও দা) নিয়ে মাসুদের ওপর হামলা চালায়।
হামলায় মাসুদের মাথা ও পায়ে গভীর জখম হয়। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে
কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।আহত মাসুদের স্ত্রী রিনা খাতুন পরদিন
কোটচাঁদপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানান,আমার স্বামীকে হত্যার উদ্দেশ্যে তারা পরিকল্পিতভাবে হামলা
করেছে। অভিযোগ করার পর থেকে তারা বিভিন্নভাবে আমাদের ভয়-ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।
আমরা এখন মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
অভিযুক্ত আলামিন হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আমার বাবা জমি চাষ করার জন্য গরু নিয়ে
মাসুদের জমির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। গরু কয়েকটি ভুট্টা গাছ খেয়ে ফেলে। এই ঘটনায়
মাসুদ আমার বাবাকে অপমান করেন। পরে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি ও মারামারি
হয়। তবে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ সত্য নয়।
এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন,
ঘটনার পর আহতের স্ত্রী বাদী হয়ে লিখিত
অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো তালসার গ্রামসহ কোটচাঁদপুর থানাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।