জীবননগর অফিস:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বাঁকা পূর্বপাড়া গ্রামে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রী-সন্তানদের মধ্যে ত্রিমুখি সৃষ্ট বিরোধের জের ধরে দু’পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ঘটনায় উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে
লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে জীবননগর থানা পুলিশে। স্বামী আনোয়ারুল ইসলামের অভিযোগ স্ত্রী-সন্তান তার জমি জায়গা বিক্রি করে নিতে চায় এবং স্বামী-সন্তানের অভিযোগ আনোয়ারুল ইসলাম একজন
মাদকাসক্ত এবং মাদক সেবন করে তদেরকে অত্যাচার নির্যাতন করে থাকে। ঘটনাটি দু’টি রোববার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে সংঘটিত হয়েছে। উপজেলার বাঁকা পুর্বপাড়ার গৃহবধু আসমা খাতুন (৪০) জানান,তার স্বামী ও স্বামীর আত্মীয়-স্বজন মিলে তাকে ও তার দুই ছেলের ওপর ধারাবাহিক ভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছে।
আসমা খাতুন তার অভিযোগে জানান,তার স্বামী আবু বক্কর বাক্কা একজন মাদকাসক্ত এবং সে বিভিন্ন
অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। মাদক সেবন থেকে বিরত থাকার জন্য পরিবার থেকে অনুরোধ করায় তার স্বামী বাক্কা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী ৬ নভেম্বর রাত দুইটার দিকে আসমা খাতুন ও তার দুই ছেলে পলাশ হোসেন ও আলহাজ হোসেনকে বেধড়ক মারধর করা হয়।
পরবর্তীতে ৯ নভেম্বর সকাল ৮টার দিকে বাক্কা তার ভাই আবারও একজোট হয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে আসমা ও তার দুই ছেলেকে মারধর করে গুরুতর জখম করে। ওই সংঘর্ষে আসমা খাতুনের গলায় থাকা ৮ আনা ওজনের সোনার চেইন তার ননদ গৃহবধু খাতুন কেড়ে নেয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এই ঘটনায় তার ছেলে পলাশ হোসেনের হাতে আঘাত করে হাড় ভাঙা জখম করে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, স্বামী আনোয়ারুল ইসলামের(৫০) তার স্ত্রী আসমা খাতুন ও দুই ছেলে তাকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করে আসছে। আনোয়ারুল ইসলামের দাবি, স্ত্রী ও সন্তানরা তার জীবদ্দশায় নিজ নামে থাকা জমি তারা বিক্রি করে নিতে চায়। কিন্তু তাতে তিনি রাজি না হওয়ায় তাদের সাথে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে।
৯ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে,নিজ বাড়িতে স্ত্রী ও সন্তানরা তাকে জমি লিখে দেয়ার জন্য চাপ দেয়। রাজি না হলে তারা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও বেধড়ক মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে। ঘটনার সময় তার দুলা ভাই ও ভাগ্নে মুরসালিন এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় উভয়পক্ষের মধ্যে এক ধরণের ক্ষোভ তাপ বিরাজ করছে। দুই পক্ষই বর্তমানে আইনের আশ্রয় নিয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি তরিকুল ইসলামের মতে,স্বামী-স্ত্রীর দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি, মাদকাসক্তি ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত। জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ মামুন হোসেন বিশ্বাস
বলেন,ঘটনার ব্যাপারে পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত চলছে। ঘটনাটি পারিবারিক বিরোধ থেকে উদ্ভূত। উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করা হচ্ছে,তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।