জীবননগর অফিস:-
ঘন কুয়াশার সাদা চাদরে ঢাকা জীবননগর উপজেলা। উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল বাতাস ও কনকনে ঠান্ডায় বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। হঠাৎ তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন অসহায়, ছিন্নমূল ও নিম্নআয়ের মানুষ। শীতজনিত রোগ ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিও বেড়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ালেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল আমীন।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন তিনি। এসময় জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থাকা রোগীদের হাতে কম্বল তুলে দেন ইউএনও। পাশাপাশি বাঁকা ইসলামী মাদ্রাসা ও কাশিপুর মাঠপাড়া মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝেও কম্বল বিতরণ করা হয়। এতে শীতে কাতর অসহায় মানুষদের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটে ওঠে।
কম্বল বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন-জীবননগর উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সৈয়দ আব্দুল জব্বার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মোস্তাফিজুর রহমান সুজন, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মুশফিকুর রহমানসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল আমীন বলেন,চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলে শীতকালে তীব্র শীত থাকে। এবারও মানুষের কষ্ট বেড়েছে। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়া কম্বল দ্রুত বিতরণ করা হচ্ছে।
বিশেষ করে ছিন্নমূল, গরিব ও অসহায় মানুষদের অগ্রাধিকার দিয়ে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবেই রাতে হাসপাতালের রোগী ও দুইটি এতিমখানার শিশুদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, রাতের আঁধারে বাড়ি বাড়ি না গিয়ে সরাসরি হাসপাতালে রোগীদের পাশে দাঁড়ানো ও এতিম শিশুদের সহায়তা করার মতো উদ্যোগ অত্যন্ত মানবিক। এতে সরকার ও প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বেড়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক শৈত্যপ্রবাহের কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শীতবস্ত্রের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন ও স্বচ্ছল ব্যক্তিদেরও শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।