জীবননগর প্রতিনিধি:
ঘন কুয়াশা আর কনকনে শীতের দাপটে কাঁপছে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর। ভোর থেকে শুরু হওয়া শীতের তীব্রতা দুপুর গড়ালেও কমেনি। কুয়াশায় ঢেকে আছে চারপাশ, সূর্যের দেখা মিলছে না। মাত্র একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়ায় উপজেলা জুড়ে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ, ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর ২০২৫) সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর্দ্রতা ৯৬ শতাংশ। সকাল ৯টার সময় তাপমাত্রা আরও কমে দাঁড়ায় ৮.০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, তখনও আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আর্দ্রতা ৯৪ শতাংশ। অর্থাৎ মাত্র একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা কমেছে প্রায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে শীতের তীব্রতা অনেকটাই বেড়ে গেছে।
শীতের কারণে সকাল থেকেই সড়কে যানবাহন চলাচল ধীরগতিতে চলছে। ঘন কুয়াশায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় যাত্রী ও চালকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। সবচেয়ে বেশি বিপাকে রয়েছেন দিনমজুর, রিকশা–ভ্যানচালক ও ছিন্নমূল মানুষ।
ভ্যানচালক রনি আহমেদ বলেন,“ভোরের দিকে রাস্তায় নামলেই শরীর জমে যায়। কাজ না করলে সংসার চলে না, আবার এই শীতে কাজ করাও খুব কষ্টকর।”
দিনমজুর রফিকুল ইসলাম বলেন,“শীত বাড়লে কাজ কমে যায়, আয়ও কমে। গরিব মানুষের শীতটাই সবচেয়ে কষ্টের।”
জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শীত বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। তিনি গরম কাপড় ব্যবহার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
স্থানীয়দের দাবি, শীত আরও তীব্র হওয়ার আগেই দ্রুত শীতবস্ত্র বিতরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ছিন্নমূল, নিম্ন আয়ের পরিবার ও প্রবীণদের তালিকা করে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল আমীন বলেন,
“ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া কম্বল বরাদ্দ ইতোমধ্যে বিতরণ শুরু হয়েছে। ছিন্নমূল, গরিব ও অসহায় মানুষের হাতে যেন দ্রুত শীতবস্ত্র পৌঁছে দেওয়া যায়, সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।”
এদিকে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, শীতের তীব্রতা আরও কয়েকদিন থাকতে পারে। তাই সবাইকে সচেতন থেকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।