আবু সাইদ শওকত আলী,বিশেষ প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মানবিকতা, ত্যাগ ও বিশ্বাসের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের একজন সাধারণ গৃহকর্মী হিসেবে পরিচিত ফাতেমা বেগমকে আইনিভাবে দত্তক নিয়ে বোনের মর্যাদা প্রদান করেছেন তিনি-যা সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তারেক রহমান জানান, ফাতেমা বেগম কেবল একজন কাজের মানুষ ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন পরিবারের নীরব শক্তি ও নির্ভরতার প্রতীক। তিনি বলেন, “যখন আমি স্বপরিবারে লন্ডনে অবস্থান করছিলাম, তখন আমার মা একাই বাসায় থাকতেন। সেই কঠিন সময়ে মায়ের পাশে থেকে সব দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন ফাতেমা।”
বিশেষ করে ২০১৮ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হলে ফাতেমা বেগম যে মানবিক সাহসিকতার পরিচয় দেন, তা দেশের ইতিহাসে বিরল। আদালতে তিনি নিজ উদ্যোগে আবেদন করে বলেন, “আমি স্বেচ্ছায় ম্যাডাম জিয়ার সঙ্গে জেলে যেতে চাই, তাঁর সেবা করার জন্য।” ফাতেমার এমন আবেদনে আদালত বিস্মিত হয় এবং পরবর্তীতে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে কারাগারে বেগম জিয়ার সঙ্গী হিসেবে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়।
এরপর প্রায় ৭৭৮ দিন ফাতেমা বেগম বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাবন্দি অবস্থায় থেকে একজন সেবিকা, অভিভাবক ও ছায়াসঙ্গীর ভূমিকা পালন করেন। তারেক রহমান বলেন, “আজ আমার মা আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু টানা ১৮ বছর মায়ের পাশে থেকে ফাতেমা এমনভাবে আমাদের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে গেছেন যে, আজও তার মধ্যে আমি মায়ের উপস্থিতি অনুভব করি।”
এই আবেগ ও দায়িত্ববোধ থেকেই তারেক রহমান আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফাতেমা বেগমকে দত্তক নিয়ে তাকে বোনের স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ঘোষণা দেন, “আজ থেকে ফাতেমা আর কাজের মানুষ নন। তিনি আমাদের পরিবারের একজন সদস্য—আমার বোন।”
তারেক রহমান আরও জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার রেখে যাওয়া পারিবারিক সম্পত্তিতে ফাতেমা বেগম আইন অনুযায়ী যে অধিকার পান, তা তাকে প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে তাকে জিয়া পরিবারের কন্যা হিসেবে পূর্ণ সামাজিক ও পারিবারিক মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করা হয়েছে।
শেষে দেশবাসী ও বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি অনুরোধ জানান, “আমার বোন ফাতেমাকে আপনারাও আপন বোনের সম্মান ও ভালোবাসার চোখে দেখবেন।” ফাতেমা বেগমের সুস্থতা ও মঙ্গল কামনা করে তারেক রহমান সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।