নিজস্ব প্রতিনিধি:-
চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে এক জামায়াতকর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজার এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে বাকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমিরের ভাই ও স্থানীয় জামায়াতকর্মী হাফিজুর রহমান গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হন বলে জানা গেছে। আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও আশপাশের ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পরদিন রোববার (১ মার্চ) জীবননগর থানায় সাতজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় মূল অভিযুক্ত করা হয় বাকা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসানকে।
সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর এলাকা থেকে মেহেদী হাসানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল আল নাসের। তিনি জানান, এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিহতের ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। সোমবার বিকেলে সদর উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে শহরের শহীদ হাসান চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে সমাবেশে মিলিত হয়।
একই দিন বিকেল ৪টার দিকে দর্শনা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দলীয় কার্যালয় থেকে আরেকটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে রেলবাজার মুক্তমঞ্চে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে রূপ নেয়।
সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, নিহত হাফিজুর রহমান একজন জুয়েলারি ব্যবসায়ী ছিলেন এবং তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি রাজনৈতিক সহিংসতা পরিহার করে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। প্রতিবাদ সমাবেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
সংঘর্ষের পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যে কোনো ধরনের সহিংসতা বা প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করা হবে।
পুলিশ বলছে, তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো যায়।