জীবননগর অফিস:-
টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা,পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় জৈব-বালাইনাশক (বায়ো পেস্টিসাইড) ব্যবহারের ওপর একটি দিনব্যাপী কৃষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) আয়োজিত এ কর্মশালার আয়োজন করে ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজ।
কর্মশালায় কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশের প্রচলিত কৃষি ব্যবস্থায় অতিরিক্ত মাত্রায় রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে, জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং খাদ্যশস্যে বিষাক্ত অবশিষ্টাংশ থেকে মানবস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে বায়ো পেস্টিসাইডকে একটি নিরাপদ,কার্যকর এবং পরিবেশ বান্ধব বিকল্প হিসেবে তুলে ধরা হয়। বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় মাটির স্বাস্থ্যের উন্নয়ন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং দীর্ঘ মেয়াদে কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাকে টেকসই করার ওপর।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলের রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার মো. আক্তারুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জীবননগর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জীবননগরের সেলিম বীজ ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী মো. শাহ আলম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলার টেরিটরি সেলস অফিসার জাকির হোসেন, চুয়াডাঙ্গা-কোটচাঁদপুর অঞ্চলের টেরিটরি অফিসার আল আমিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কর্মশালায় ব্র্যাক উদ্ভাবিত উন্নত জাতের বিভিন্ন বীজের পরিচিতি ও ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল হাইব্রিড ধান “রাজা”, করলা বীজ “মনি”, ভুট্টা ১৬৪ এবং উন্নতমানের আলু বীজ। অংশগ্রহণকারী কৃষকদের এসব বীজের উৎপাদন ক্ষমতা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।
জীবননগর উপজেলার মোট ৫৫ জন নির্বাচিত মডেল কৃষক কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণে বায়োপেস্টিসাইডের পরিচিতি, সঠিক প্রয়োগ পদ্ধতি, কার্যকারিতা এবং বিভিন্ন ফসলের ক্ষতিকর রোগ ও পোকামাকড় দমনে এর ব্যবহারিক দিক হাতে-কলমে শেখানো হয়। মাঠ পর্যায়ে এর বাস্তব প্রয়োগের কৌশলও প্রদর্শন করা হয়, যা কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন,“বর্তমান সময়ের চাহিদা অনুযায়ী রাসায়নিক নির্ভর কৃষি থেকে পরিবেশবান্ধব কৃষিতে রূপান্তর অপরিহার্য। বায়োপেস্টিসাইড ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা যেমন পরিবেশ রক্ষা করতে পারব, তেমনি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনও নিশ্চিত করা সম্ভব। কৃষকদের এ বিষয়ে সচেতন ও দক্ষ করে তোলা খুবই জরুরি।”
অংশগ্রহণকারী কৃষকরা জানান, তারা এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তি ও পদ্ধতি সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জন করেছেন, যা তাদের উৎপাদন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। তারা ভবিষ্যতে জৈব-বালাইনাশকের ব্যবহার বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন,এ ধরনের উদ্যোগ তৃণমূল পর্যায়ে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কৃষি চর্চা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।