ডিজিটাল সেবার আড়ালে দালালি কোটচাঁদপুরে তমালের খপ্পরে সর্বস্বান্ত এতিম যুবক আব্দুল কাদের

আবু সাইদ শওকত আলী,বিশেষ প্রতিনিধি:

সরকারি সেবা যখন সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দে’ ওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে দেশ এগোচ্ছে, ঠিক তখনই ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে ডিজিটাল সেন্টারের আড়ালে এক ভয়াবহ ‘দালাল চক্রের’ থাবা দৃশ্যমান হয়েছে। উপজেলার কুশনা মাঝের পাড়ার মৃত তাজুল ইসলামের ছোট ছেলে অসহায় আঃ কাদের পৈত্রিক জমি রক্ষায় নেমে এখন অস্তিত্ব সংকটে। অভিযোগের তীর কুশনা বাজার পাড়ার ‘তমাল কম্পিউটার’-এর মালিক তমাল হোসেনের দিকে, যিনি ডিজিটাল সেবার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে প্রতারণার জাল বিছিয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আঃ কাদের তার পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত মাত্র ৭ শতক জমির নামজারি (মিউটেশন) করতে গেলে তাকে কৌশলে ফাঁদে ফেলেন তমাল হোসেন। বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ‘কম্পিউটার ম্যান’ হিসেবে কাজ করার সুবাদে সৃষ্ট প্রভাব খাটিয়ে তমাল এই সরকারি কাজটিকে অত্যন্ত জটিল ও দুঃসাধ্য হিসেবে উপস্থাপন করেন। অসহায় কাদেরকে বাধ্য করেন ৩৬ হাজার টাকার একটি অলিখিত চুক্তিতে। ​

বাবার স্মৃতিটুকু ধরে রাখার নেশায় আব্দুল কাদের তার তিন বোনের দেওয়া শখের ‘আইফোন এক্সআর’ মাত্র ২১ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। সেই সাথে নিজের জমানো সঞ্চয় মিলিয়ে দুই দফায় ২৬ হাজার টাকা তুলে দেন তমালের হাতে। কিন্তু সাত মাস পেরিয়ে গেলেও নামজারির কোনো হদিস মেলেনি। উল্টো টাকা ফেরত চাইলে এখন জুটছে প্রাণনাশের হুমকি।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একটি নামজারি কেসের মোট খরচ যেখানে মাত্র ১,১৭০ টাকা, সেখানে ২৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া শুধু অনৈতিক নয়, বরং দণ্ডনীয় অপরাধ। ​আবেদন ও নোটিশ ফি: ১২০ টাকা ​রেকর্ড সংশোধন ও খতিয়ান ফি: ১,০৫০ টাকা কিন্তু ডিজিটাল সেবার আড়ালে থাকা এই সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে কয়েক গুণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। যার জ্বলন্ত উদাহরণ আব্ কাদের।

​কান্নাজড়িত কণ্ঠে আব্দুল কাদের বলেন,আমি সবার ছোট। আমাদের বাবা নেই। বোনেরা শখ করে ফোনটা দিয়েছিল। সেটাও বিক্রি করে দিয়েছি জমিটুকু রক্ষা করতে। এখন কাজ তো দূরের কথা, টাকা ফেরত চাইলে তমাল আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে বিচার চাই। আমি বাঁচতে চাই।
​অভিযুক্ত তমাল হোসেন শুরুতে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করার চেষ্টা করলেও লেনদেনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সামনে আনলে তিনি নিশ্চুপ হয়ে যান। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকায় তমাল কাউকে পরোয়া করেন না এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেন।

​কোটচাঁদপুর উপজেলার গ্রামীণ জনপদে প্রশাসনের স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং এই অসাধু সিন্ডিকেট নির্মূলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সরাসরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি। ডিজিটাল সেন্টারের আড়ালে এমন ‘দালালি’ ও ‘প্রতারণা’ বন্ধ না হলে সাধারণ মানুষের সরকারি সেবার ওপর থেকে আস্থা উঠে যাবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
​এতিম আঃ কাদেরের হারানো টাকা উদ্ধার এবং অভিযুক্ত তমাল হোসেনকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *