আবু সাইদ শওকত আলী,বিশেষ প্রতিনিধি:-
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক সাজ্জাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া নারী নির্যাতন মামলাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ ঘটনায় মামলার বিপরীতে ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির অভিযোগও উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,শনিবার দুপুরে খালিশপুর বাজার এলাকা থেকে সাজ্জাদুল ইসলামকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা নারী নির্যাতন মামলার ভিত্তিতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মামলার বাদী তানিয়া খাতুন নাটিমা,উপজেলার কুরিপোল এলাকার টালিখোলা পাড়ার বাসিন্দা এবং ফিরোজের স্ত্রী। মামলায় তিনি সাজ্জাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন।
অন্যদিকে, সাজ্জাদুল ইসলামের ঘনিষ্ঠজন ও স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, পুরো ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইল ও অর্থ আদায়ের চেষ্টা। তাদের অভিযোগ, গত ২৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ব্যক্তিগত কাজের কথা বলে তানিয়া খাতুন সাজ্জাদুল ইসলামকে তার বাসায় ডেকে নেন। সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন যুবক তাকে জিম্মি করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং জোরপূর্বক টাকা ও স্বাক্ষর করা ব্যাংক চেক নিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া, ওই সময় কিছু ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও দাবি করা হয়েছে। পরে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আরও টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। সাজ্জাদুল ইসলামের পক্ষের লোকজন আরও দাবি করেছেন,টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হলে পরবর্তীতে তানিয়া খাতুনের মাধ্যমে মহেশপুর থানায় নারী নির্যাতনের মামলা দায়ের করা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তানিয়া খাতুন বা অভিযুক্ত অন্যদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে অডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। মহেশপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে,মামলার বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে।