বিশেষ প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের পুটিজানা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আব্দুর রহিম (২৫) ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধে নিহত হয়েছেন। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আজিজুল হকের ছেলে। তার মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছানোর পর পরিবার ও গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে কয়েক বছর আগে সিঙ্গাপুরে যান আব্দুর রহিম। পরে ২০২৪ সালে বিভিন্ন মাধ্যমে রাশিয়ায় পাড়ি জমান তিনি। সেখানে একটি তেল ও গ্যাস কোম্পানিতে কাজ করার পাশাপাশি প্রায় এক মাস আগে চুক্তিভিত্তিকভাবে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীতে যোগ দেন বলে জানা গেছে।
পরিবারের দাবি, কাউকে না জানিয়েই তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। প্রথমদিকে পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলেও পরে ধীরে ধীরে যোগাযোগ সীমিত হয়ে যায়। ফোন বা ভিডিও কলে কথা বলা বন্ধ করে দিয়ে তিনি কেবল ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখতেন।
নিহতের ছোট ভাই আব্দুর রহমান জানান, সর্বশেষ গত ২৮ এপ্রিল পরিবারের সঙ্গে তার কথা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় কোনো যোগাযোগ না থাকায় পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। পরে সহযোদ্ধা ও পরিচিতজনদের মাধ্যমে জানা যায়, গত ৪ মে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ান বাহিনীর হয়ে লড়াই করার সময় গুলিবিদ্ধ হন আব্দুর রহিম। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর গত রোববার (১০ মে) তার মৃত্যুর খবর পরিবার নিশ্চিতভাবে জানতে পারে।
স্থানীয়রা জানান, আব্দুর রহিম ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। সংসারের অভাব-অনটন দূর করতে বিদেশে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। প্রতিবেশীরা শোকাহত পরিবারের বাড়িতে ভিড় করছেন এবং সমবেদনা জানাচ্ছেন
এদিকে নিহতের পরিবার সরকারের কাছে সহযোগিতা চেয়ে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে। পরিবারের সদস্যরা বলেন, অন্তত শেষবারের মতো প্রিয়জনের মুখ দেখতে চান তারা।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, বিদেশে কর্মসংস্থানের আড়ালে ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। তারা এ বিষয়ে সরকারের নজরদারি ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো বাংলাদেশি যুবক এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতির শিকার না হন।