আবু সাইদ শওকত আলী,বিশেষ প্রতিনিধি:
সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠা ৩৪তম বিসিএস (কৃষি) ক্যাডারের কর্মকর্তা শাহীন হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও নারী কেলেঙ্কারির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একসময়ের প্রভাবশালী এই কর্মকর্তা বর্তমানে মাগুরা বীজ প্রত্যয়ন অফিসে বহিঃঅঙ্গন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত থাকলেও কর্মস্থলে তাঁর উপস্থিতির চেয়ে রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়মের চর্চাই বেশি বলে অভিযোগ রয়েছে।
কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১ জুন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর থেকেই তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের তকমা ব্যবহার করে ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন শাহীন হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, কৃষি বিভাগের তৎকালীন মহাপরিচালক (ডিজি) বাদল চন্দ্র বিশ্বাসের আস্থাভাজন হওয়ার সুবাদে তিনি মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন প্রকল্পের প্রদর্শনীর অর্থ লুটপাটে জড়িয়ে পড়েন। মনিরামপুরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় রাজনৈতিক প্রভাবকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি ধরাকে সরা জ্ঞান করতেন।
অভিযোগ উঠেছে মনিরামপুরে কর্মরত থাকাকালীন শাহীন হোসেনের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ২০২২ সালে তাঁকে শাস্তিমূলকভাবে চট্টগ্রামে বদলি করা হয়। তবে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকার কারণে সেই কেলেঙ্কারির বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়। পরবর্তীতে দলীয় দাপট খাটিয়ে তিনি ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় বদলি হয়ে আসেন। হরিণাকুণ্ডুতে যোগদানের পর কৃষকের ভর্তুকির সারের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে শাহীনের বিরুদ্ধে। তদন্তে এই অভিযোগ প্রমাণিত হলেও সাবেক ডিজি বাদল চন্দ্র বিশ্বাসের আনুকূল্যে তিনি লঘুদণ্ড পেয়ে মাগুরা বীজ প্রত্যয়ন অফিসে পদায়ন পান। বর্তমানে মাগুরায় কর্মরত থাকলেও তিনি নিয়মিত অফিস করেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র জানায়, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর বর্তমান মহাপরিচালক মো. সায়ফুল আলমকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে শাহীনকে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। তবে কৃষি ভবনের একটি প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে থাকায় তিনি সেই কৈফিয়তের তোয়াক্কা করেননি। অভিযোগ রয়েছে, ঘুষ ও প্রভাব খাটিয়ে তিনি তাঁর স্ত্রী রাজিয়া সুলতানাকে ফুলতলা থেকে যশোর সদরে বদলি করিয়ে আনেন। বর্তমানে এই দম্পতি যশোর শহরে বসবাস করছেন এবং রাজিয়া সুলতানার বিরুদ্ধেও স্বামীর ইন্ধনে বিভিন্ন প্রকল্পের প্রদর্শনীর টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শাহীন হোসেন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও তাঁর স্ত্রীর দপ্তরের সরকারি গাড়িটি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন। নিয়মিত সন্তানদের স্কুলে যাতায়াতের কাজে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা বিধি পরিপন্থী। তাঁর এমন উশৃঙ্খল ও রাজনৈতিক আগ্রাসী আচরণের কারণে যশোরের কৃষি উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহীন হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।