হরিণাকুন্ডুতে দৃষ্টিনন্দন লিচু বাগান, বছরে লাখ টাকার লাভ কৃষকের

আবু সাইদ শওকত আলী,বিশেষ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের হরিণাকু-ু উপজেলা উপজেলার গুড়পাড়া ভাতুড়িয়া গ্রামে চোখজুড়ানো এক লিচু বাগান এখন সবার দৃষ্টি কাড়ছে। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে থোকায় থোকায় লালচে রঙের পাকা লিচু। বাগানে ঢুকলেই যে কারও কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে সৌন্দর্য উপভোগ করতে ইচ্ছে করবে।
এই দৃষ্টিনন্দন লিচু বাগানের মালিক মোঃ মখলেছুর রহমান। তিনি গ্রামের মৃত সমশের বিশ্বাসের ছেলে। প্রায় ৪৬ শতক জমির ওপর গড়ে তুলেছেন লাভজনক এই লিচু বাগান। বাগানের লিচু পাকতে না পাকতেই তিনি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে সরেজমিনে বাগান ঘুরে দেখা যায়,গাছে গাছে ঝুলছে বিভিন্ন জাতের উন্নতমানের লিচু। কথা হয় বাগান মালিক মখলেছুর রহমানের সঙ্গে। তিনি জানান, প্রায় ১২ বছর আগে রাজশাহী,ঈশ্বরদী ও মেহেরপুর থেকে চারা সংগ্রহ করে এই বাগান গড়ে তোলেন। বর্তমানে বাগানে প্রায় ৪৫টি গাছ রয়েছে। এর মধ্যে ৪১টি গাছের লিচু বিক্রি করেছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “লিচু চাষে তুলনামূলক খরচ কম। বছরে একবার সার প্রয়োগ করতে হয় এবং ফুল আসার সময় ভিটামিনজাতীয় কীটনাশক স্প্রে দিলেই ভালো ফলন পাওয়া যায়। এছাড়া ফল বড় হওয়ার সময় পাহারা দেওয়া ছাড়া তেমন কোনো খরচ নেই।”
তার দাবি, সব খরচ বাদ দিয়েও প্রতি বিঘায় বছরে এক লাখ টাকার বেশি লাভ করা সম্ভব। বাগানে চায়না, বোম্বাইসহ বিভিন্ন ধরনের হাইব্রিড জাতের লিচু রয়েছে।
মখলেছুর রহমান জানান,তার সফলতা দেখে এলাকার অনেক তরুণ এখন লিচু বাগান করতে আগ্রহী হচ্ছেন। নতুন উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করতেও তিনি প্রস্তুত। পাশাপাশি তিনি উচ্চ ফলনশীল জাতের কলমের চারাও তৈরি করেন। তার কাছ থেকে চারা নিয়ে অনেকে ইতোমধ্যে লাভবান হয়েছেন বলেও জানান তিনি। তবে আক্ষেপের সুরে এই কৃষক বলেন,কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সহযোগিতা বা নিয়মিত পরামর্শ পাননি তিনি।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-এর হরিণাকুন্ডু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম তিতুমির বলেন,“মখলেছুর রহমান এ বিষয়ে সরাসরি কখনও যোগাযোগ করেননি। তবে ইউনিয়ন পর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা খোঁজখবর রাখেন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *