আবু সাইদ শওকত আলী,বিশেষ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমড়াবাড়ীয়া গ্রামে তিন সন্তানের জননী এক গৃহবধূর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে| ¯^ামীর অভিযোগ, প্রতিবেশী এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে ওই গৃহবধূ নগদ অর্থ ও ¯^র্ণালঙ্কার নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন| এ ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন|
মামলার অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ী আল মামুন রুবেলের সঙ্গে সুমাইয়া খাতুনের দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনে তিনটি সন্তান রয়েছে| তাদের বয়স যথাক্রমে আট বছর, চার বছর এবং চার মাস| সম্প্রতি প্রতিবেশী যুবক আবু সাঈদের সঙ্গে সুমাইয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ ওঠে| বিষয়টি নিয়ে এর আগেও স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস ˆবঠক অনুষ্ঠিত হয়|
স্থানীয়দের দাবি, এক পর্যায়ে আবু সাঈদ লিখিত মুচলেকা দিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করেছিলেন| তবে এরপরও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি|
অভিযোগে বলা হয়, গত ২ মে সকালে ব্যবসার কাজে বাড়ির বাইরে ছিলেন আল মামুন রুবেল| এ সুযোগে সুমাইয়া খাতুন ঘরের আলমারি থেকে ব্যবসার মূলধন ও গরু বিক্রির প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং প্রায় এক ভরি ¯^র্ণালঙ্কার নিয়ে আবু সাঈদের সঙ্গে চলে যান| এরপর থেকে তাদের অবস্থান সম্পর্কে পরিবার নিশ্চিত কোনো তথ্য পায়নি|
ভুক্তভোগী আল মামুন রুবেল জানান, স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার পর তিনি তিন সন্তানকে নিয়ে মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন| বিশেষ করে চার মাস বয়সী শিশুটির দেখাশোনা ও লালন-পালন নিয়ে তিনি চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন| ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত প্রতিকার চেয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন|
পরিবারের সদস্যদের দাবি, ঘটনার কয়েক সপ্তাহ পর সুমাইয়া খাতুন গোপনে ¯^জনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন| তিনি নিজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং ছোট সন্তানের খোঁজখবর নেন| এমনকি শিশুটির চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তাও চেয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে| তবে এসব তথ্যের সত্যতা ¯^াধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি|
এদিকে অভিযুক্তদের পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয়ভাবে একতরফা সালিসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে| বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে|
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পারিবারিক বিরোধ, অবৈধ সম্পর্ক এবং আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধের ঘটনা সমাজে উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে| এসব ঘটনায় আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও পারিবারিক মূল্যবোধ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা|
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান বলেন, “যেহেতু বিষয়টি আদালতে মামলা আকারে রয়েছে, তাই আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম পরিচালিত হবে| আদালত থেকে নির্দেশনা পেলে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে|”
ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং নিখোঁজ গৃহবধূর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য জানতে এখন প্রশাসনের তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে এলাকাবাসী| একই সঙ্গে তিন সন্তানকে নিয়ে অসহায় অবস্থায় থাকা পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা|