আবু সাইদ শওকত আলী,বিশেষ প্রতিনিধি:-
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কালীগঞ্জ-গান্না সড়কের একটি অংশে ভালো অবস্থায় থাকা পিচঢালা রাস্তা ভেঙে ইটের সলিং নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে| মাত্র সাড়ে ৮৫০ মিটার সড়কের এ উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮৮ লাখ টাকা|
সরেজমিনে দেখা গেছে, কালীগঞ্জ নিমতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে আলাইপুর গ্রাম পর্যন্ত সড়কের অংশে বিদ্যমান পিচ ও পাথরের স্তর অপসারণ করে দুই স্তরের ইটের সলিং নির্মাণ করা হচ্ছে| স্থানীয়দের দাবি, সড়কের অধিকাংশ অংশই চলাচলের উপযোগী ও ভালো অবস্থায় ছিল| কয়েকটি স্থানে সামান্য ক্ষতি থাকলেও তা সাধারণ মেরামতের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব ছিল|
স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্পূর্ণ সড়ক ভেঙে নতুন করে ইটের সলিং নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়ে তারা সংশয়ে রয়েছেন| তাদের মতে, এতে সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি জনদুর্ভোগও বেড়েছে|
প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে দূরপাল্লার যানবাহন, শত শত ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন ধরনের ছোট-বড় যান চলাচল করে| এছাড়া শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ এটি| বর্তমানে নির্মাণকাজের কারণে সড়কে ধুলাবালি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে|
স্থানীয় ব্যবসায়ী তুহিন হোসেন বলেন, “রাস্তার বেশিরভাগ অংশই ভালো ছিল| সামান্য মেরামত করলেই চলত| কিন্তু পুরো রাস্তা ভেঙে নতুন কাজ করার প্রয়োজনীয়তা আমরা বুঝতে পারছি না|”
ইজিবাইক চালক আলিম হোসেন বলেন, “পাকা রাস্তার পরিবর্তে ইটের সলিং করা হলে যানবাহন চালাতে বেশি কষ্ট হয়| এতে ঝুঁকিও বাড়ে| কাজটি কতটা টেকসই হবে, সেটিও প্রশ্নের বিষয়|”
এ বিষয়ে কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘গামা কনস্ট্রাকশন’-এর ¯^ত্বাধিকারী গোলাম হোসেন মে¤^ার বলেন, “টেন্ডারের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে| নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে|”
সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী অপূর্ব বিশ্বাস জানান, বর্ষার পানিতে সড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রক্ষণাবেক্ষণমূলক কাজের আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে|
তবে ভালো অবস্থায় থাকা অংশ কেন ভাঙা হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কিছু ভালো অংশও কাজের আওতায় পড়ে গেছে| এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বললে ভালো হবে|”
ভালো পিচঢালা সড়ক ভেঙে ইটের সলিং নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের যৌক্তিকতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে| সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী|