জীবননগর পশ্চিম বাড়ান্দীতে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে  দু’পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ ৬ আহত যুবককে পিটিয়ে ৬ টি ও হাত-ভেঙ্গে জখমের অভিযোগ

জীবননগর অফিস:-
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার পশ্চিম বাড়ান্দী গ্রামে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দু’পরিবারের মধ্যে সৃষ্ট সংঘর্ষে নারীসহ কমপক্ষে ৬ আহত হয়েছে প্রতিপক্ষের হামলাায় যুবকের ৬ টি দাঁতসহ হাত-পা ভেঙ্গে মারাত্মক ভাবে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি মঙ্গলবার দুপুর  একটা থেকে বিকাল চারটার মধ্যে সংঘটিত হয়েছে। ঘটনার ব্যাপারে জীবননগর থানায় পৃথক মামলা করা হয়েছে। উভয়পক্ষের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানাযায়,উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের  পশ্চিম বাড়ান্দী গ্রামের জমির উদ্দিনদের (৪৫) দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী মুনসুর আলী,সোহেল হোসেন ও জুয়েল হোসেনের সাথে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলছে। সেই বিরোধের জের ধরে মঙ্গলবার( ৯ জুন) দুপুর একটার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে আরো বলাহয়,অভিযুক্তরা লাঠিসোটা,লোহার রড,দা ও হাসুয়া নিয়ে বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
একপর্যায়ে তারা জমির উদ্দিনকে বেধড়ক মারধর করে। অভিযোগ অনুযায়ী,মুনসুর আলী কাঠের বাটাম দিয়ে জমির উদ্দিনের মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে সংঘর্ষ আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।

জমির উদ্দিনের বড় ভাই বিল্লাল হোসেন হামলা প্রতিহত করতে গেলে জুয়েল হোসেন লোহার রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এদিকে জমির উদ্দিনের স্ত্রী মাজেদা খাতুন স্বজনদের রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধরের শিকার হতে হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সোহেল হোসেন লোহার রড দিয়ে তার ডান হাতে আঘাত করলে হাত ভেঙে যায়। পরে মুনসুর আলী হাসুয়া দিয়ে কোপ দেওয়ার চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার জন্য হাত বাড়িয়ে দিলে তার দুই হাতেই গুরুতর জখম হয়।

হামলার সময় জমির উদ্দিনের ছেলে মাজেদুলও আহত হন। তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় এবং মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু শারীরিক হামলাই নয়,অভিযুক্তরা বাড়িঘরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুর চালায় এবং বিভিন্ন আসবাবপত্রের ক্ষতি সাধন করে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে মুনসুর আলী বলেন,আমাদের জমি  প্রতিবেশী বিল্লাল,জমির,মাজেদুল,মাজেদা খাতুন হৃদয়,মোশেদা খাতুন আমাদের ক্রয়খতৃত

জমি দখলে না দিয়ে জোর পুর্বক বেদখল করে আছে। সেই ঘটনার জের ধরে ঘটনার দিন বিকাল ৪ টার দিকে আমরা সবাই মাঠে ঘাটে কাজে ছিলাম। এ সুযোগে তারা আমার ছোট ভাই সোহেলকে বাড়ী থেকে ধরে নিয়ে তাদের বাড়ীতে তাকে হাত-পা বেঁধে মারপিট করে জখম করে। তারা আমার ভাইকে মধ্যযুগীয়া কায়দায় মারপিট করে মুখের ৬ টি দাঁত,বুকের হাড়,দুই পা ও ডানায় কোপ দিয়ে  ভেঙ্গে মারাত্মক ভাবে জখম করে।

নির্যাতনের শিকার সোহেল বলে,আমি তাদের কাছে  পানি খেতে চাইলে   তারা
আমাকে পানি পর্যন্ত দেয়নি। তারা আমার সর্বশরীরে মারপিট করে আমাকে মারাত্মক ভাবে জখম করে। রায়পুর ফাঁড়ির পুলিশ গিয়ে পরে আমাকে উদ্ধার করে।

রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বলেন,ঘটনার
ব্যাপারটি আমি লোকমুখে শুনেছি। তবে কোনপক্ষই আমার নিকট আসেনি এবং ঘটনার বিস্তারিত বলতে পারব না।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ সোলায়মান শেখ বলেন,ঘটনার ব্যাপারে উভয়পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *