জীবননগর অফিস:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বালিহুদা গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে এসে স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার চেষ্টা করার অভিযোগে রাতুল হোসেন (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। গুরুতর আহত গৃহবধূ রোজিনা খাতুন (১৮) বর্তমানে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত রোজিনা খাতুন উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বালিহুদা ষষ্ঠীতলা গ্রামের প্রান্তিক কৃষক নজরুল ইসলামের মেয়ে। অভিযুক্ত রাতুল হোসেন পার্শ্ববর্তী দর্শনা থানার গড়াইটুপি গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় দেড় বছর আগে রোজিনা ও রাতুলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে রাতুল তার স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। নির্যাতনের কারণে প্রায় দুই মাস আগে রোজিনা বাবার বাড়িতে চলে আসেন এবং সেখানেই অবস্থান করছিলেন।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার (২৭ জুন) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে রাতুল শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করেন এবং রাতে থাকার ব্যবস্থা করে দেন। গভীর রাতে, রোববার (২৮ জুন) আনুমানিক রাত ২টার দিকে স্বামী-স্ত্রী একই কক্ষে থাকা অবস্থায় রাতুল ধারালো একটি কাঁচি দিয়ে রোজিনার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।
রোজিনার চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে এসে রাতুলকে আটক করেন এবং পুলিশে খবর দেন। পরে জীবননগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয়। আহত রোজিনাকে দ্রুত উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
রোজিনার বাবা নজরুল ইসলাম বলেন,
“বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়ের ওপর নির্যাতন চলছিল। শনিবার রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। সময়মতো আমরা টের পাওয়ায় মেয়েটি প্রাণে বেঁচে গেছে।”
জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. হাসিব জানান, ভোর ৫টার দিকে আহত রোজিনাকে হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর আঘাতের প্রকৃত মাত্রা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আব্দুস শুকুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “পরিবারের সদস্যরা সময়মতো বিষয়টি টের পাওয়ায় রোজিনা ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে গেছেন।”
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলাইমান শেখ বলেন, ঘটনাটি নিয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযুক্ত রাতুল হোসেনকে রোববার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এছাড়া আহত রোজিনা খাতুনের বক্তব্যও পুলিশ গ্রহণ করেছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।