আবু সাইদ শওকত আলী,ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে জমিজমা-সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে একই দিনে দুই দফা হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক পল্লী চিকিৎসক, তার বড় ভাই এবং তিন কন্যাসহ একই পরিবারের পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় সোমবার (২৯ জুন) সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আহত আব্দুর রাজ্জাক।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মনোহরপুর গ্রামের বাসিন্দা ও পল্লী চিকিৎসক মো. কবির হোসেন গত ২৮ জুন সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৪০ মিনিটে মনোহরপুর বাজারে রেজাউলের চায়ের দোকানের সামনে বসে ছিলেন। এ সময় পূর্ববিরোধের জেরে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত সোহাগ রামদা দিয়ে কবির হোসেনের মাথায় কোপ দেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি হাত দিয়ে প্রতিরোধ করেন। এতে তার ডান হাত গুরুতর জখম হয়। পরে কেরামত আলী ও উলাদ হোসেন লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় সাদ্দাম হোসেন একটি সাইকেল ভাঙচুর করেন এবং সামছুর রহমান ওষুধভর্তি ব্যাগে আগুন লাগিয়ে প্রায় ৯ হাজার টাকার ক্ষতি করেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। স্থানীয়রা আহত কবির হোসেনকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেন।
এর প্রায় এক ঘণ্টা পর, আহত ভাইকে দেখে বাড়ি ফেরার পথে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪০ মিনিটে কুদ্দুস মাস্টারের পুকুরপাড় এলাকায় আব্দুর রাজ্জাক ও তার তিন কন্যার ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলায় আব্দুর রাজ্জাকের মাথায় লোহার রডের আঘাতে গুরুতর জখম হয়। পরে তার মাথায় আটটি সেলাই দিতে হয়। এছাড়া তার তিন কন্যা—প্রিয়া, পাপিয়া ও পূর্ণিমাও আহত হন।
পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন থাকার কারণে থানায় অভিযোগ দায়েরে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে মনোহরপুর গ্রামের সামছুর রহমান, কেরামত আলী, উলাদ হোসেন, সাদ্দাম হোসেন, জাহাঙ্গীর এবং ছোট পুকুরিয়া গ্রামের সোহাগ ও আলমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, জমিজমা-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আহতদের চিকিৎসার বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”