দুদকের মামলার তথ্য গোপন করে তিন শিক্ষকের সরকারি হওয়ার অভিযোগ

আবু সাইদ শওকত আলী,ঝিনাইদহ:

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চলমান ফৌজদারি মামলার তথ্য গোপন এবং জালিয়াতির মাধ্যমে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ সরকারি মাহাতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের তিন শিক্ষককে রাজ¯^ খাতে (সরকারি) অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে| এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে (মাউশি) অন্ধকারে রেখে কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষের যোগসাজশে এ অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে দুদকের ঝিনাইদহ সমšি^ত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালকের (ডিডি) কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে|

অভিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন— কলেজের উপাধ্যক্ষ (নন-ক্যাডার) মো. আব্দুল মজিদ মণ্ডল, ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক (নন-ক্যাডার) মনোজ কান্তি বিশ্বাস এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক (নন-ক্যাডার) রকিবুল ইসলাম মিল্টন|

নথি সূত্রে জানা গেছে, এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার খাতা চুরির অভিযোগে সিআইডির তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান তাদের বিরুদ্ধে দুদকে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ঝিনাইদহ-১/২০২৪)| পরে দুদকের ঝিনাইদহ সমšি^ত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাইদুর রহমান তদন্ত শেষে চার্জশিট দাখিলের অনুমতির জন্য প্রতিবেদন দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠান| বর্তমানে মামলাটি ঝিনাইদহের বিশেষ দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে|

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও তা প্রত্যাহার হয়েছে— এমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ চিন্ময় বাড়ৈ মাউশিতে প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স ছাড়াই ফাইল পাঠান| অভিযোগ অনুযায়ী, মাউশিও কোনো ধরনের ক্রস-চেক বা যাচাই-বাছাই ছাড়াই গত ১৪ জানুয়ারি ওই তিন শিক্ষককে রাজ¯^ খাতে অন্তর্ভুক্ত করে|

এছাড়া খাতা চুরি মামলার প্রধান অভিযুক্ত রকিবুল ইসলাম মিল্টনকে ২০২৬ সালের এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়ায় স্থানীয় শিক্ষা মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে|

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অধ্যক্ষ চিন্ময় বাড়ৈর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি| কলেজে গিয়েও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি| অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি যোগদানের পর থেকে নিয়মিত কলেজে উপস্থিত হন না| এছাড়া তার বিরুদ্ধে কলেজ তহবিলের অর্থ তছরুপ এবং রংপুরে কর্মরত থাকাকালে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে| তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি|

অভিযুক্ত প্রভাষক রকিবুল ইসলাম মিল্টন দাবি করেন, মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়েছে| তবে আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দুদকের মামলা তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে বিচারাধীন অবস্থায় থাকলে তা প্রত্যাহারের সুযোগ নেই|

অভিযোগকারী পক্ষ জানায়, বিষয়টি কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা)-কে অবহিত করা হলেও এ পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি|

এ বিষয়ে দুদকের ঝিনাইদহ সমšি^ত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক (ডিডি) তরুণ কুমার ঘোষ বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর| মামলা চলমান বা চার্জশিটভুক্ত কোনো বিষয়ে তথ্য গোপনের সুযোগ নেই| দুদকের পরবর্তী সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুমতি চাওয়া হবে| প্রয়োজনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চিঠি দেওয়া হবে|”

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *