ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে তিনটি পৃথক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে। একের পর এক নৃশংস হত্যার ঘটনায় উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন মহলেও প্রশ্ন উঠেছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সর্বশেষ গত ৫ জুলাই রাতে উপজেলার বয়রা বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে চন্দ্রপাড়া সড়কে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন ময়মনসিংহের হাওয়ার রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি সেন্টারের কর্মকর্তা আব্দুল বারেক আকন্দ ওরফে মজনু মুন্সি (৫৫)। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
নিহতের ছেলে, বিজিবির সদস্য মাজহারুল ইসলাম আকাশের দাবি, ছিনতাইকারীদের চিনে ফেলায় পরিকল্পিতভাবে তার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, মৃত্যুর আগে তার বাবা পশ্চিমপাড়া এলাকার তিন কিশোরের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে ৩০ জুন গৌরীপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি মানিক মিয়া (৪৪)-কে প্রকাশ্যে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ২ জুলাই রাতে নিহতের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সেলিনা বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে গৌরীপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসা ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক শোয়েব মুন্সী, গৌরীপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আল ইমরান খান এবং গৌরীপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রিফাত খানকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ মামলার কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
এরও পাঁচ দিন আগে, ২৫ জুন উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নের বারুয়ামারী গ্রামের একটি বিল থেকে আলিফ মাহমুদ (২২) নামে এক গার্মেন্টসকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আলিফ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বাসিন্দা এবং গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে এক কৃষক বেগুন ক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে বিলে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। হত্যার কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
টানা ১০ দিনের ব্যবধানে সংঘটিত তিনটি হত্যাকাণ্ডে গৌরীপুরজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠলেও দৃশ্যমান অভিযান, দ্রুত গ্রেপ্তার এবং কার্যকর আইনগত পদক্ষেপের অভাবে জনমনে হতাশা তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে দ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।
এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। আশা করছি, দ্রুতই মামলাগুলোর অগ্রগতির বিষয়ে জানানো যাবে।”